''শিক্ষাব্যবস্থা এখন ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন''


Published: 2020-01-21 19:52:28 BdST, Updated: 2020-04-05 07:08:50 BdST

ঢাবি লাইভঃ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বটতলায় এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা।

সভায় সভাপতি মাসুদ তার বক্তব্যে জানান, "আজ শিক্ষাব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন। স্কুল শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা বানিজ্যিক পণ্যে পরিনত হয়েছে"।

এসময় তিনি এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের কিছু দাবী পেশ করেন:
১. অবিলম্বে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করতে হবে।
২. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নাইটকোর্স বাতিল করতে হবে, প্রথম বর্ষ থেকেই সিট নিশ্চিতকরণ, গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ ও ইউজিসি’র ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র বাতিল করতে হবে।

৩. সন্ত্রাস- দখলদারিত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।
৪. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজে স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়ােগ - ক্লাসরুম নির্মাণ করতে হবে।

৫. ২১০ দিন ক্লাস নিশ্চিত করা।
৬. সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক সেকুলার একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি।

তারা আরও জানান, "২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) চালু করে বলা হলো এর মাধ্যমে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম উল্টো চিত্র। গাইড বই কােচিংগুলাের ব্যবসা বাড়লাে। ভালাে ফলাফলের প্রত্যাশায় প্রশ্নফাঁস নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হলাে ।

১১-১২ বছর বয়সী একটা শিশুকে পাবলিক পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। পরীক্ষার চাপে পড়তে বাধ্য হলাে কিন্তু লেখাপড়ার প্রতি দীর্ঘ মেয়াদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এতে শিশুর স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, শৈশব ও কৈশোরের আনন্দময় জগতকে এভাবেই নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। আর দেখলাম, শুধুমাত্র এ বছরই পিইসি পরীক্ষায় পাস করতে না পেরে মানসিক চাপে সারাদেশে ৫ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১টি বিভাগ ও অনুষদে ৮৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউটে ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি বিভাগে নাইটকোর্স চালু আছে। এসব কোর্সের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন ও কোর্সের সাথে যুক্ত শিক্ষকরা। বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ জ্ঞান সৃষ্টি-বিতরণ-সংরক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় আজ দোকানে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি নাইটকোর্সের নামে শিক্ষা বাণিজ্য চলতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন। এর ভিত্তিতেই মঞ্জুরী কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে এসব কোর্স বন্ধে প্রয়ােজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়।

অতীতেও এরকম অনেক ফাঁকা কথা বলা হয়েছে কিন্তু সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ প্রগতিশীল সংগঠন ও ছাত্রসমাজ এ ধরনের বাণিজ্যিক কোর্স অতি দ্রুত বন্ধে সরকার-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ দেখতে চায়।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাতটি কলেজকে কোনাে পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর এক ঘােষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় নিয়ে আসা হলাে। সরকারের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার মান উন্নত হবে বলা হলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ প্রগতিশীল সংগঠন ও ছাত্রসমাজ এ ধরনের অন্তভুক্তি থেকে বাতিল দাবি করে।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলােতে ছাত্রলীগের একক দখলদারিত্ব বিরাজ করছে। ১ম বর্ষে আসা একজন শিক্ষার্থীকে সিটের জন্য ছাত্রলীগের কাছে দাসখত দিয়ে হলে উঠতে হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ প্রগতিশীল সংগঠন ও ছাত্রসমাজ এসব দখলদারিত্ব বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগ দেখতে চায়।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি ফখরুদ্দীন কবির ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার।

সমাবেশ শেষে একটি র‌্যালি বটতলা থেকে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয় শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের শিক্ষাবিনাশী ''মজিদ খান শিক্ষা কমিশন'' এর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতেই সংগঠনের জন্ম। পরবর্তী সময়ে শাসকশ্রেণীর শিক্ষাবিরােধী-গণবিরােধী সকল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ও ছাত্রস্বার্থে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে লড়েছে।

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।