টিএসসির সামাজিক সংগঠনের নামে ব্যবসার অভিযোগ


Published: 2019-12-10 21:01:52 BdST, Updated: 2020-01-18 01:55:24 BdST

ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক গ্রহণকালে তোলা একটি ছবির দাম ২ হাজার টাকা হাকিয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (ডিইউপিএস)।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যসব ছবি প্রতি ১ হাজার টাকা করে নিয়েছে সংগঠনটি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। গোল্ড মেডেলিস্ট ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক ফেসবুক গ্রুপে টিএসসির তথাকথিত সামাজিক সংগঠনের অন্তরালে ব্যবসা’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন যেখানে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সেখানে তিনি লিখেন, আমি ডিইউপিএস-এর অফিসে গেলে তাদের সভাপতি আবু জাফর মো. সালেহ জানান, একটা ছবির চূড়ান্ত মূল্য দুই হাজার টাকা। আগের বছর তারা পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, এবার আমাদের জন্য ছাড় দিয়ে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে।

এদিকে, ফেসবুকে পোস্ট করা খাইরুলের ওই স্ট্যাটাসের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিজিটিং কার্ডের তথ্যের ভিত্তিতে যোগাযোগ করে ছবি নিতে চাইলে প্রতিটি ছবির জন্য ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। ফটোগ্রাফিক সোসাইটির একাধিক সদস্য বিশেষ নিরাপত্তা পাশের মাধ্যমে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করে এক প্রকার বাণিজ্য পরিচালনা করে।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী একাধিক গ্রাজুয়েট জানান, সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক নেয়ার মুহূর্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই মুহূর্তের একটি স্থিরচিত্র ধারণ করে মোটা অংকের টাকা দাবি করার মাধ্যমে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এক রকম জিম্মি করছে শিক্ষার্থীদের।

ভিভিআইপি অতিথি থাকার কারনে অনুষ্ঠানস্থলে ক্যামেরা কিংবা কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখার অনুমতি ছিলো না। সেখানে ফটোগ্রাফিক সোসাইটির তিনজন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ছবি তুলে শিক্ষার্থীদের এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে।

তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি আবু জাফর মো. সালেহ। তিনি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মিস-আন্ডারস্টান্ডিং থেকে এমনটা হয়েছে। গতকাল স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ফেসবুক গ্রুপ দু’টিতে খাইরুল ইসলাম নামে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী যে সব তথ্য দিয়ে পোস্ট করেছেন তা সত্য নয়।

সোমবার সন্ধ্যায় পোস্টদাতা এবং তার সাথে উৎপল কুমার প্রধান ডিইউপিএস অফিস কক্ষে ছবি নিতে আসলে জনাব উৎপল প্রধান-এর হলের ছোট ভাই রজত পাল ভাইদের সাথে মজার ছলে বলে “আপনি তো হলের বড় ভাই আবার গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। আপনাদের কাছে তো ট্রিট পাওনা। ট্রিট দিতে গেলে তো অনেক টাকা লাগতো”।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

কিন্তু পোস্টে প্রমোদভ্রমণ নামে একটি বিভ্রান্তিজনক তথ্য ছড়ানো হয়েছে। ডিইউপিএস যেহেতু আলোকচিত্র নিয়ে কাজ করে তাই এর সদস্যরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সময় শিক্ষামূলক ফটো-আউটিং বা ছবি তুলতে যায়। কিন্তু প্রমোদভ্রমণ নামে ডিইউপিএসের শিক্ষামূলক ফটো-আউটিং ব্যাপারটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর সমাবর্তন উপলক্ষে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ফটোসেশনের আয়োজন করে থাকে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ পায় না ডিইউপিএস। ফটোস্টুডিও নির্মাণ, তিনদিন ধরে ৩০-৪০ জন ফটোগ্রাফারদের ব্যয়, ছবি প্রিন্টিং ও প্রচার-প্রচারণা বাবদ বড় অংকের টাকা খরচ হয়ে যায়।

ছবি বিক্রির মাধ্যমে ডিইউপিএস এই ব্যয় বহন করে। ব্যয় নির্বাহের পরবর্তীতে যেসব উদ্বৃত্ত অর্থ থাকে তা ডিইউপিএসের সদস্যদের ফটোগ্রাফি কর্মশালা, ফটো-আউটিং, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়। তাই এক্ষেত্রে ডিইউপিএস যে ছবি নিয়ে ব্যবসা করে তা বলা যৌক্তিক না।

তিনি বলেন, সংগঠনের আর্থিক তহবিলের জন্যে পূর্ব থেকেই এমন প্রথা চালু ছিল, অতীতে এর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসে নাই। ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ যাতে না আসে, তার জন্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছবিপ্রতি অনেক টাকা চেয়েছে বলে শুনেছি। তাদেরকে সংযত হওয়ার জন্য বলেছি। স্বেচ্ছাসেবক কর্মকাণ্ডের আদলে যদি ব্যবসা পেতে বসে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের এসব কাজে যুক্ত করার আর কোনো পথ থাকবে না। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।