ছাত্রদল সন্দেহে ঢাবির ২শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল ছাড়া (ভিডিও)


Published: 2019-12-09 20:28:45 BdST, Updated: 2020-01-25 12:09:02 BdST

ঢাবি লাইভঃ ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের ২ জন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া অভিযোগ ওঠেছে হল ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই ২ শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান ও ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন।

সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে এ অভিযোগের বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ২জন।

সংশ্লিষ্টসূত্র জানায়, সোমবার ভোরে হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফসার হাসান রানার নেতৃত্বে দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে মারধর ও পরে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। আফসার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।

এ বিষয়ে রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল সাড়ে ৫টা ৩০মিনিটে ৪-৫ জন বড় ভাই আমাকে ঘুম থেকে তুলে হল সংসদের রুমে নিয়ে যায়। তখন ১ম বর্ষের সুমন নামের আরও একজকে সেখানে নেওয়া হয়। প্রথমে তারা আমাদের দুজনকে 'অনুপ্রবেশকারী' বলে ব্লেম দেন।

পরে আমাদের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ চেক করে সেখানে সুমনের সাথে আমার কিছু কনভারসেশন পায়। আর ফেসবুকে ছাত্রদলের নেতাদের সাথে স্টার কাবাবে খাওয়ার ছবি দেখে তারা আমাদেরকে ছাত্রদল ট্যাগ দেয়। পরে কয়েকজন মিলে আমাদেরকে চড় থাপ্পড় দেয়।

তিনি বলেন, সেখানে রড ও স্ট্যাম্প দিয়ে মারধরের ভয় দেখানো হয়। এক পর্যায়ে আমাদেরকে বলে তোরা যদি এখনই হল থেকে বের হয়ে না যাস, তাহলে এক্ষুণি শাহবাগ থানায় ফোন দিয়ে তোদেরকে শিবির বলে পুলিশের হাতে তুলে দেবো। পরে আমার হল থেকে চলে আসি। এখন প্রক্টর ও প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবো।''

ভিডিও:

https://youtu.be/gkwkxFTvdNs

মারধরের শিকার আরেক শিক্ষার্থী সুমন বলেন, আমার মানিব্যাগে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। আফসার ভাই, আমার মানিব্যাগ সার্জ করার নামে তিন হাজার টাকা নিয়ে নেন।

সূত্রে জানা যায়, সুমন ১১১ নম্বর ও রাকিব ১১৩ নম্বর কক্ষে থাকেন। সুমন তাঁর কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন। তখন ছাত্রলীগ নেতা জিসান তাকে ঘুম থেকে তুলে হলের তিন তলায় নিয়ে যান। সেখানে আফসারের নেতৃত্বে তাকে একদফা মারধর করা হয়। তারপর গেস্টরুম ও হল ছাত্র সংসদের কক্ষে নিয়ে আরেক দফা মারধর করেন।

একইভাবে রাকিবকেও ডেকে নেওয়া হয়। হল শাখা ছাত্রলীগের আফসার হাসান রানার নেতৃত্বে জহির, জুয়েল, লাভলু তাকে প্রথমে মারধর তারপর রড স্ট্যাম দিয়ে ভয় ভীতি দেখেন।

ছাত্রলীগ নেতা আফসার হোসেন রানা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি এই বিষয়ে কিচ্ছু জানিনা' এ বিষয়ে জানতে হল সংসদের ভিপি আলিম খানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফেন রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এটা হলের অভ্যন্তরীণ ঘটনা। এটা হল প্রশাসন দেখবে। তবে তারা যদি কোনো সাহায্য চায়, তাহলে আমরা করবো।

এ বিষয়ে জানতে এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান ফোন করা হলে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আজকে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশনে ব্যস্ত ছিলাম। বিষয়টি আমি জেনেছি। কালকে বিষয়টি দেখবো।''

ঢাকা, ০৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।