টাকার অভাবে শিগিগিরই মারা যাব, স্ট্যাটাস দিয়ে চলেই গেলেন ছাত্রী!


Published: 2019-12-07 17:40:18 BdST, Updated: 2020-08-13 02:47:09 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ‘খুব শীঘ্রই হয়তো টাকার অভাবে আমিও মারা যাবো, আর তখন সবাই ঠিকই আমাকে দেখতে আসবে। কিন্তু সময় থাকতে খুব কম মানুষই সাহায্যের হাত বাড়াবে।’ গত ১১ অক্টোবর এমন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সাদিয়া সুলতানা। তার সেই স্ট্যাটাসের পরও সাহায্য মেলেনি ক্যান্সার আক্রান্ত ওই ছাত্রীর। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ভোর সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের আলোক হেলথ কেয়ারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন সাদিয়া। মৃত্যুর আগে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়ে নানাভাবে আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। তাতেও কাজ হয়নি।

এর আগে গত ২০ জুলাই কিছু গিফটের ছবি দিয়ে আরেকটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেন সাদিয়া। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বরাবরের মতই ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। আঙ্কেল আমাকে অনেক স্নেহ করেন সেটা সবাইই জানে, আর আমি তো আরও ভালো করে জানি। তাই আজকেও চলে আসার সময় আঙ্কেল বললো, দাঁড়াও সাদিয়া, এতো জলদি কেনো যাওয়ার? দাঁড়াও দেখি তোমাকে কোনো গিফট দেওয়া যায় কি না।

তারপর এগুলো গিফট হিসেবে দিয়ে দিল। আগেও এমন অনেক কিছু গিফট হিসেবে দিয়েছেন আঙ্কেল। সত্যি ই জানি না কতোদিন বাঁচবো। কিন্তু এই যে যেখানেই যাই সেখানেই সবাই এতো ভালোবাসে এর থেকে বড় পাওয়া আমার জীবনে আর কিছুই নেই। এভাবে সবার ভালোবাসা নিয়ে চলে যাওয়াও সবার কপালে থাকে না। আসলেই জীবন সুন্দর। সত্যিই অনেক সুন্দর।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালে মে মাসে পরীক্ষার কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সাদিয়া। পরে তাকে প্রথমে উত্তরা মহিলা মেডিকেল ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসার পরেও অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার আর এমসি হাসপাতালে জরুরি অপারেশন করা হয়। অপারেশনে কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে। মাঝে কিছুদিন ভালো ছিলেন সাদিয়া। নিয়মিত নিজের ক্লাস ও টিউশনিও করেছেন। কিন্তু ফের রমজানের আগে আবার ব্যথা শুরু হলে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বিদ্যুতের তত্ত্বাবধানে আলোক হাসপাতালে বিশোর্ধ্ব সাদিয়ার চিকিৎসা চলছিল।

কয়েকদিন আগে সাদিয়ার মা কামরুন নাহার জানান, ৮টি কেমোথেরাপির পর আরও একটি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ক্যানসার সমস্ত পেটে ও জরায়ুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মাঝে আমরা কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আবার দেশে চলে আসি। এখন মেয়ের পা ফুলে মোটা হয়ে গেছে। পেটও ফুলে গেছে। ব্যথায় অস্থির। এক ঢোক পানি ছাড়া কিছুই খেতে পারছে না। আমার মেয়েটা সব সময় মানুষের সেবায় কাজ করেছে। মানা করলেও অন্যকে রক্ত দিত।

ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।