ভার্সিটি ছাত্রীর মায়ের আহাজারি : মেয়ে নয়, চোখের মনি হারিয়েছি!


Published: 2019-12-07 00:53:52 BdST, Updated: 2020-08-09 13:39:26 BdST

ময়মনসিংহ লাইভ : রুম্পা আমার চোখের মনি ছিল। আমি মেয়ে হারাইনি, হারিয়েছি চোখের মনি। দুই চোখজুড়ে অন্ধকার দেখছি। কত কষ্ট করে মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করেছি। যার যায় সেই বুঝে। সকালে ডিম ভাজি দিয়ে ভাত খাইয়েছি। বিকেলে মেয়েটি বাসায় এসে আবার বের হয়ে লাশ হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মা এভাবেই আহাজারি করছেন। রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার বিজয়নগরে এখন চলছে শোকের মাতম। রুম্পার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্বজনরা।

মেয়ের শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নাহিদা আক্তার পারুল। স্বজনরা তাকে শান্তনা দিয়েও কান্না থামাতে পারছেন না। দু’দিন ধরে কিছুই খায়নি। শারীরিকভাবে অসুস্থও হয়ে পড়েন। তিনি আরো বলেন, ইউনিভার্টিতে ছাত্রছাত্রীদের শিফট আলাদা হওয়ায় দু’দিন ধরে মেয়ের মনও খারাপ ছিলো। তার সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল কি, না তা বলতে পারছি না। বুধবার সকালে ডিমভাজি করে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছি। এটাই যে শেষ খাওয়া কে জানতো? সন্ধ্যায় তার চাচাতো ভাই শুভর নিকট ব্যাগ-মোবাইল দিয়ে চলে যায়। বাসার দ্বিতীয় তলাও রুম্পা উঠেনি। এমন কী জরুরী কাজ ছিল? যার জন্য এতো দ্রুত ছুটে যায়। দিন-রাত অপেক্ষায় ছিলাম- এতো মেয়ে ফিরবে-ফিরে আসবে। এলো লাশ হয়ে; আমার মেয়েকে কেনো মেরে ফেললো, আমি বিচার চাই, বিচার চাই।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রোড থেকে রুম্পার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার ভোর ৫টায় রুম্পার মরদেহ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের বিজয়নগরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বেলা ১০টায় জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাদী রুবিলা খাতুনের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

শুক্রবার বিকালে বিজয়নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় রুম্পার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মেয়ের কবরের সামনেই বসে অঝোরে কাঁদছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবা মোঃ রুককুন উদ্দিন। স্বজনরা তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সাথে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। পড়াশোনার পাশাপাশি রুম্পা টিউশনি করাতেন। গত বুধবার টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পর রুম্পা। এরপর বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হন। কিন্তু এরপর রাতে আর বাসায় ফিরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার রুম্পার মা-সহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।