বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, সন্দেহ বয়ফ্রেন্ডের দিকে!


Published: 2019-12-06 08:09:40 BdST, Updated: 2020-08-11 04:21:20 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার লাশ উদ্ধারের পর থেকে ঘুরেফিরে নানা বিষয় সামনে আসছে। ওই ছাত্রীকে হত্যার পর লাশ ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যার মোটিভ নিয়েই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এর পেছনে রুম্পার কোন সহপাঠী বা বন্ধুর হাত আছে কিনা বা পারিবারিক কোন শত্রুতা কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মাঝে রুম্পার সৈকত নামে এক বয়ফ্রেন্ড রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ওই হত্যার সঙ্গে ওই বয়ফ্রেন্ডের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার আগে রুম্পা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন আভাস মিলেছে। ধর্ষণের পেছনে বয়ফ্রেন্ড কিংবা রুম্পার কোন বন্ধুর হাত আছে কিনা বা বাইরের কেউ ওই ঘটনায় জড়িত কিনা তা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সদর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে। রুম্পার বাম স্তনে আঁচড় বা কামড়ের দাগ রয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এটি একটি হত্যাকান্ড সেটি মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা সেটি পুরোপুরি নিশ্চিত নয় পুলিশ। বিষয়টি নিচক ধারণা করা হচ্ছে। লাশের মোটিভ দেখে এটি ধর্ষণ মনে করছে পুলিশ।

আরো পড়ুন : স্ট্যামফোর্ড ছাত্রীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ, ধর্ষণের সন্দেহ!

জানা গেছে, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনিও করাতেন রুম্পা। সপরিবার ২৫৫ শান্তিবাগে থাকতেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড় ছিলেন। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক। শারমিন দুটি টিউশনি করে বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে তিনি কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে নিচে নেমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও পরা স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরোনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফিরে আসেননি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে শারমিনের মাসহ স্বজনেরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে শারমিনকে শনাক্ত করেন। রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা নামে ওই ছাত্রী ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করতেন।

এদিকে রুম্পার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, সৈকত নামে এক ছাত্রের সঙ্গে রুম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ওপেন সিক্রেট। হত্যার পেছনে তার কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটি সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখার দাবি করছেন তারা। সেই সঙ্গে অযথা যাতে কাউকে হয়রানি না করা হয় সেটিও বিবেচনায় রাখার দাবি তাদের।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, বিকেল ৩টায় ঢামেক হাসপাতাল মর্গে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। লাশের শরীরের আঘাত দেখে মনে হয়েছে ওপর থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে দুই বাড়ির মধ্যে থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইমসিন ক্রাইমসিন ইউনিট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানা যায় ওই লাশটি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাত্রী রুম্পার।

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।