ধুলা ও বায়ু দূূষণে অতিষ্ঠ ঢাবি শিক্ষার্থীরা


Published: 2019-12-04 02:21:54 BdST, Updated: 2020-08-09 09:05:01 BdST

মো. রাসেল সরকার,ঢাবিঃ ধুলোর রাজ্য ঢাকা নগরী। তার বুকে একখন্ড সবুজ ক্যাম্পাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যার নির্মল পরিবেশে অবাধে বিচরণ করেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সম্প্রতি ওয়াসা ও মেট্রোরেলের উন্নয়নমূলক কাজে ধুলা-বালি ও বায়ু দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেইট ‘মুক্তি ও গণতন্ত্রের তোরণ’ থেকে শুরু করে ভিসি চত্বর, টিএসসি, চাঁনখারপুল মোড় থেকে কার্জন ও শাহবাগ মোড় থেকে দোয়েল চত্বর সর্বত্র দেখা যাচ্ছে ধুলোর কুয়াশা।

সাম্প্রতিককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও বেশ কয়েকটি ফটকের সামনে বিশাল বিশাল গর্ত করে উন্নয়নমূলক কাজ করে ওয়াসা। কাজ শেষ হলেও সেখানে কোথাও কোথাও মাটির স্তুপ ও ধুলো-বালি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে সেগুলো বাতাসে মিশে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব স্থানে পথচারীরা নাকে-মুখে হাত বা মাকস ছাড়া অবাধে চলাফেরা করতে পারছেন না।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ করায় শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বরের রাস্তায় ব্যাপক বায়ু দূষণ শুরু হয়। টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের আশ-পাশ পরিণত হয় ধুলা-বালির রাজ্যে। এতে নাকাল হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ; শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা অনেক দুর্ভোগে পড়েন ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর পরিবেশটাকে এই কয়েক বছরে চোখের সামনে তিলতিল করে ধ্বংস হতে দেখেছি। মুক্ত বাতাসে সতেজ শ্বাস নেয়াটাই দায় হয়ে পড়েছে। শুধু এই রাস্তা না, পুরো ক্যাম্পাসের এই নাজেহাল অবস্থা।

টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের  পাশ দিয়ে মেট্রোরেল

 

কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি ফেসবুক গ্রুপে পুল করে ক্যাম্পাসে বায়ু দূষণ প্রতিরোধে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিতে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে চান সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার। এতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিবাচক সাড়া দেন।

ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে জুলিয়াস সিজার তালুকদার বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যে রাস্তাগুলো গিয়েছে, সেগুলো সিটি কর্পোরেশনের। এখন সেখানে ওয়াসার কাজ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তাদের সাথে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখা, বায়ু দূষণ প্রতিরোধ করা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমার হলের পাশে যে ফুলার রোডটি আছে, এখানে ধুলা-বালির পরিমাণ অনেক বেশি।

আমার হলের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আমার কাছে অভিযোগ করেছে। ভিসি দেশে ফিরলে , আমরা তাঁর কাছে যাবো। তিনি যদি পদক্ষেপ না নেন, তাহলে আমরা সিটি কর্পোরেশনের কাছে যাবো। অন্যথায় আমরা শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে যতটুকু বিশুদ্ধ বায়ু নিশ্চিত করা যায়, তার জন্য চেষ্টা করবো।”

টিএসসি ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ’র জন্য টিএসসিতে রুম বরাদ্দ ও কমিটি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তৎপরতা নেই তাদের। এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি সবুজ হোসেন বলেন,‘‘বিভিন্ন দিবসভিত্তিক আমাদের প্রোগ্রমাগুলো হয়। আমরা বিভিন্ন ওয়ার্কশপের আয়োজন করে থাকি। আসলে শীত আসলে বা বর্ষাকালে প্রতিবছরই রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই।’’

এ বিষয়ে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে যারা পানি ছিটানোর দ্বায়িত্বে আছেন, আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু তারা যে কাজ করছেন তা যথেষ্ঠ নয়। পরবর্তীতে আমি ভিসি স্যারের কাছে এপ্লিক্যাশন করি, যাতে আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ কাজ করা হয়। কিন্তু পরপরই ভিসি স্যার দেশের বাইরে চলে গেছেন। প্রশাসনের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবশের উপর নজর দেওয়া। বায়ু দূষণের ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। অন্যথায় ভয়াবহ সমস্যায় পড়বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘‘এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথেষ্ঠ দ্বায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি। বরং এটি যখন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হচ্ছিল, আমরা তখন সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানাই। ফলে এখান প্রতিদিন সকালে পানি দেওয়া হয়।

নাকে হাত ছাড়া চলতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা

 

আমরা এখন চেষ্টা করছি ওয়াসা , যারা এই উন্নয়ন কাজটি তত্ত্বাবধায়ন করছে তাদের সঙ্গে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ে যাতে আপাতত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ বিষয়ে যারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন , তাদেরকে সমন্বয় করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।এতা কর্মকর্তা কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বেহাল কেন থাকবে, এটা আমাদেরও প্রশ্ন।’’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর একেএম গোলাম রব্বানী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘‘ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে ওয়াসা ও মেট্রোরেলের কাজ চলছে। ডেভেলোপিং ওয়ার্ক তো আর বন্ধ রাখা যাবে না। আমাদেরও ব্যবস্থা আছে। আবার আমাদের সেই পরিমান অবকাঠামো নাই যে, ধুলোমুক্ত পরিবেশ বজায় রেখে কাজ করতে পারবে।

আমরা তাদের ম্যাসেজ দিয়েছি- দ্রুত এখানে কাজ সেরে চলে যাওয়ার জন্য।যেখানে ধুলো-বালি উড়ছে, সেখানে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।আসলে মৌসুমটাও তো চেঞ্জ।আজকে একটি মিটিং আছে আমার , আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। একদম ধুলামুক্ত করা যাবে সেটা বলছি না, তবে মিনিমাম কতটা করা যায়, সেটা নিয়ে কথা বলবো।”

ঢাকা, ০৩ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।