ভিডিও কল দিয়ে ইডেন ছাত্রীর আত্মহত্যা, সেই ‘বয়ফ্রেন্ড’ কারাগারে


Published: 2019-12-03 13:09:36 BdST, Updated: 2020-01-18 14:44:43 BdST

ঝালকাঠি লাইভ : ইডেন কলেজ ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘা গত ২১ এপ্রিল বয়ফ্রেন্ড মাহিবীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছিলেন। এসময় মেঘার আকুতিতেও তার মন গলেনি। সেই লম্পট ও প্রতারক বয়ফ্রেন্ডকে অবশেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ইডেন কলেজ ছাত্রী মেঘাকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগে দীর্ঘ ৭ মাস পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর বুধবার ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ০৭ এ আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন মাহিবী হাসান, তার মা সেলিনা নাফিজ ও বোন নওরীন বন্যা। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ খাদেম উল কায়েস মাহিবী হাসানের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তার মা ও বোনের জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকার কাঁঠালবাগান এলাকার ৭৪/১ ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের চারতলা বাড়ির চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে ইডেন কলেজের সমাজ কল্যাণ বিভাগের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘার লাশ উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। তিনি ঝালকাঠির পূর্ব চাদকাঠি এলাকার আবুল কালাম আজাদের মেয়ে। ওইদিন রাতেই কলাবাগান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে নিহতের চাচা আবুল বাশার। ২২ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মেঘার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

মেঘার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে মেঘার বাবা আবুল কালাম আজাদ (৫৫) অভিযোগ করেন, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় শহরের পূর্বচাদকাঠি এলাকার মৃত. মো. নফিজুর রহমানের ছেলে বরিশাল হাতেম আলী কলেজের ছাত্র মাহিবী হাসানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মেঘার। ২০১৭ সালে মেঘা ঢাকা ইডেন কলেজে ভর্তি হয়। কাঁঠালবাগান এলাকায় এক বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতো মেঘা। ঢাকায় গিয়ে মাহিবী হাসান প্রায়ই মেঘার সাথে দেখা করতো। মাস ছয়েক আগে মেঘা এবং মাহিবী বিয়ের ব্যাপারে একমত হলেও বাধঁ সাধেন মাহিবীর মা ঝালকাঠি কির্ত্তীপাশা হাসপাতালের নার্স সেলিনা বেগম। গত ২১ এপ্রিল মাহিবীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করে মেঘা।

ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর গত ৪ জুলাই সায়মা কালাম মেঘার মা রুবিনা বেগম বাদি হয়ে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ০৭ এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(ক) ও ৩০ ধারায় একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাহিবী হাসান, তার মা সেলিনা নফিজ ও বোন নওরীন বন্যাকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয় মাহিবী হাসান মেঘার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং এক পর্যায় বিয়ে করতে অস্বীকার ও আত্মহত্যায় বাধ্য করে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআইকে।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর ঢাকা মেট্রোর পরিদর্শক মোঃ নাসির উদ্দিন মৃত্যুর পূর্বে মেঘার লেখা চিঠি, মাহিবী হাসান ও মেঘার বিভিন্ন সময়ে তোলা ২৮ কপি ছবি, তাদের ম্যাসেঞ্জার ও ইমুতে হওয়া চ্যাটের ২৫ পাতা কাগজ এবং মাহিবী ও মেঘার অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ১২ টি ভিডিও পর্যালোচনা করে গত ৬ অক্টোবর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

গত ২৮ অক্টোবর বিচারক মোঃ খাদেম উল কায়েস প্রধান আসামী মাহিবী হাসান, তার মা সেলিনা নফিজ ও বোন নওরীন বন্যার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ২৭ নভেম্বর উল্লিখিত তিনজন ট্রাইবুনালে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে বিচারক মাহিবীর জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বাদি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ মকবুল হোসেন।

ঢাকা, ০৩ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।