বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করে যুবলীগের সদস্য জবি ভিসি!


Published: 2019-10-19 17:02:27 BdST, Updated: 2019-11-13 08:18:04 BdST

আরাফাত সবুজ, জবিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কোন রাজনৈতিক পদে থাকার নিয়ম নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধানে। এখানে সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোন সংশ্লিস্ট থাকা আইনে কাভার করে না। কিন্ত ব্যতিক্রম কেবল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জবিকে নিয়ে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এখন যুবলীগের সভাপতি মন্ডলীর এক নাম্বার সদস্য হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এনিয়ে চলছে নানান আলোচনা- সমালোচনার শেষ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ৮নাম্বার ধারায় লেখা আছে, আচার্য ও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব থাকিবেন। এছাড়া ৪৪ নাম্বার ধারার ৪ নাম্বার উপধারায় উল্লেখ আছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারিবেন না ।

দেখা গেছে তিনি র্দীঘদিন যাবৎ রাজনৈতিক পদে বহাল তবিয়তে আছেন। যেটি আইনের পরিপন্থী। এদিকে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ৭বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষ হবার কেবল এক বছর বাকি।

তাই তিনি আগেভাগেই নিজের পছন্দের জায়গা খুজার চেষ্টা করছেন। এছাড়া তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লা থেকে সাংসদ নিবার্চন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। এদিকে গতকয়েক মাস আগে বাংলাদেশ মনজুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্যানেলে প্রবেশ করার জন্য শত চেষ্টা করে সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন। এই মিশনে তাও ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া সামনে তার পছন্দের কোন জায়গা নেই। তাই তিনি যুবলীগের সম্মেলনের আগে স্বইচ্ছায় যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ পাইলে দায়িত্ব পালন করতে রাজি বলে মন্তব্য করেছেন

দেখা গেছে জবির ভিসির বক্তব্য নিয়ে,‘যুবলীগের ভাবমূর্তি ফেরাতে চেয়ারম্যান হিসাবে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলে পালন করতে রাজি আছি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদ ছাড়তেও কোন দ্বিধা নেই’ এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইসবুকে) বাহবা দেয়ার চেয়ে বেশি সামলোচিত হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বাজে মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

এমনও মন্তব্য করতে দেখা গেছে ভিসির বয়স ৬০ উর্ধ্ধে তিনি তো আর যুবক নেই । কোন নিয়মে তিনি এই পদ চান! তার মতলব কি’ এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেইসবুক পরিবার ফেইজে স্ট্যাটাসে দেখা গেছে জবির ভিসিকে যুবলীগের চেয়ারম্যান করলে ঢাবির ভিসিকে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক করতে হবে বলে দাবি জানান তারা ।

বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে কথা প্রসঙ্গে ভিসি ড.মীজানুর বলেন, যুবলীগের দায়িত্ব পেলে তিনি ভিসি পদ ছেড়ে দেবেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগে তিনি যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীর ১ নং সদস্য হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি আর যুবলীগের সাথে কোন সংযোগ রাখেননি। যুবলীগের কোন প্রোগ্রামেও যাননা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির চেয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদকে বেশি প্রাধান্য দেন বলে জানান তিনি। তবে ভিসি হিসেবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে ক্যাসিনোাকান্ডে কোটি কোটি তরুণ বিভ্রান্ত হয়েছেন। এই সংগঠনের জন্য অনেক কষ্ট করেছি। এখন সংগঠনটি একটি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

কোটি তরুণকে ফের সঠিক পথে আস্থার মধ্যে ফেরাতে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি তা পালন করবেন। এ সময় তিনি বলেন, ভিসি হিসেবে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ৭ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। যুবলীগ আমার প্রাণের সংগঠন। আমি অবশ্যই যুবলীগের পদকে গুরুত্ব দেব।

সামনে যুবলীগের কাউন্সিল। তিনি চেয়ারম্যান পদে লড়বেন কি না জানতে চাইলে মীজানুর রহমান বলেন, না। নিজে থেকে তিনি কোনো পদ চাইবেন না। কখনো কোনো পদ চাননি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে দায়িত্ব দেন তাহলে তিনি ভিসি পদ ছেড়ে দিয়ে যুবলীগের পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

যুবলীগের নেতৃত্বের বয়সসীমা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, এটা নেত্রী চাইলে বেঁধে দিতে পারেন। এখন যিনি চেয়ারম্যান তাঁর বয়সটা অনেক বেশি। এটা তো আগে ছিল না। তবে বেঁধে দেওয়ার আগের গড় আয়ু যে বেড়েছে সেটা বিবেচনায় নিতে হবে।

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।