আবরারকে নিয়ে বুয়েটের অমিত সাহার মেসেঞ্জার চ্যাট ফাঁস!


Published: 2019-10-10 03:17:33 BdST, Updated: 2019-12-09 00:23:46 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়েলর (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে একই হলের ছাত্র অমিত সাহার কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অথচ সেই অমিতকে আসামি না করায় এনিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কোন শক্তির বলে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে এনিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও অমিত সাহার বিরুদ্ধে তার কক্ষে বুয়েটের একাধিক ছাত্রকে নির্যাতনের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এদিকে আবরারকে নিয়ে অমিত সাহার একটি ম্যাসেঞ্জার চ্যাট ফাঁস হয়েছে যেখানে আবরার হলে আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অমিত সাহাই আবরারের হলে থাকার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বাকিদের খবর দেন। পরে তার রুমেই আবরারকে পিটিয়ে মারা হয়। যদিও আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বাবা বরকতউল্লাহ যে মামলা করেছেন সেখানে রহস্যজনক কারণে অমিত সাহার নাম নেই। ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে সেই ২০১১ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা গ্রেফতার না হওয়ায় এনিয়ে চলছে দেশ জুড়ে চলছে বিতর্ক। সবশেষ এতে নতুন করে মাত্রা যোগ করেছে খোদ অমিত সাহারই একটি মেসেজ। যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

হত্যাকাণ্ডের আগে ১৭তম ব্যাচের (ফাহাদের সহপাঠী) এক শিক্ষার্থীকে অমিত সাহা ম্যাসেঞ্জারে জিজ্ঞেস করেছেন, আবরার ফাহাদ কি হলে আছে? এ ধরনের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তারই এক সিনিয়র এ বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

এর আগে, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বলেছিলেন, আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত ৮টার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইলে ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেজে তার লাইক দেওয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। আমরা তার শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই। ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দফতর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা।

পরে ঘটনার প্রমাণ পাওয়ায় চতুর্থ বর্ষের ভাইদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সেখানে আসেন। একপর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো ওরা ফাহাদকে মারধর করে থাকতে পারে। পরে, রাত ৩টার দিকে শুনি সে মারা গেছে। ওই বক্তব্যে অমিত সাহার নাম আছে। কিন্তু, পরে ছাত্রলীগের তদন্তে এই ছাত্র ক্যাম্পাসের বাইরে ছিল উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ধারণা, অমিত সাহা যদি ঘটনাস্থলে নাও থাকেন, তিনি আবরার ফাহাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তা হত্যাকারীদের জানিয়েছেন। কারণ, ফাহাদ তো বাসায় গিয়েছিল, হলে এসেছে কি-না তা সিনিয়ররা জানতেন না। এর আগেও হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে অমিত সাহা অনেক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছিলেন। এমন ঘটনা শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জানিয়েছেন।

মামলায় অমিত সাহাকে আসামি না করার বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এফআইআরের (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) রেশ ধরে। সেই বিবরণীতে উনি (বাদী) প্রাথমিকভাবে যাদের মনে করেছেন, যারা অপরাধ করেছেন, তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। এর বাইরেও যদি কাউকে পাওয়া হয়, যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কোনো বাধা নেই।

ঢাকা, ১০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.ম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।