আবরারের শেষ সময়ের দুজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা


Published: 2019-10-09 15:34:06 BdST, Updated: 2019-12-06 17:30:53 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ আবরারের মতোই বুয়েটের শেরে বাংলা হলে থাকেন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর মহিউদ্দিন তাকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়।

আর আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর নির্যাতনে নিহত আবরারের শেষ সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী এই দুজন সেসব ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

এর মাঝে আরাফাত আফসোস করে বললেন, যদি তিন-চার মিনিট আগে তিনি সেখানে উপস্থিত হতে পারতেন, তাহলেও হয়তো আবরারকে বাঁচানো যেত।

মহিউদ্দিন বললেন, আবরারকে কাতরানো অবস্থায় দেখার সময় এক ছাত্রলীগ নেতা বলছিলেন, ‘ও নাটক করতাছে’। এ রকম পরিস্থিতিতে তাকে বাঁচাতে না পারায় মহিউদ্দিনের এখন আফসোস হচ্ছে।

বুধবার বেলা দেড়টায় এই দুই ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তখন ওই দুই ছাত্রসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আরাফাত বলেন, পড়া শেষ করে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলেন তিনি। ঠিক তখনই দেখতে পান তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছেন। তখনও তার চিন্তায় আসেনি যে এ রকম কিছু হতে পারে। সে ধারণা করেছিল, মাথা ঘুরে কেউ হয়তো পড়ে গেছে।

আরাফাত আরও বলেন, ‘খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসে নাই এভাবে কাউকে মারা হতে পারে’। তিনি বলেন, যখন আবরারের হাত ধরেন তখন আবরারের হাত পুরো ঠান্ডা, পা ঠান্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হয়েছে।

তিনি আরও বলছিলেন, ‘তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দেই। হাতে চাপ দেই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এরপর ডাক্তার আসল। ডাক্তার দেখে বলেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে’।

কাঁদতে কাঁদতে আফসোস করে আরাফাত বলছিলেন, ‘তিন-চারটা মিনিট আগে যদি খাবার আনতে যাইতাম, তাহলে পোলাডারে বাঁচাইয়া রাখতে পারতাম। এই তিন মিনিটের আফসোসে তিন দিনে তিন ঘণ্টাও ঘুমাইতে পারি নাই’।

আরাফাতের এ বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই মহিউদ্দিন বলছিলেন, ‘আরাফাতের তো তিন মিনিটের আফসোস আছে, আর আমার আছে অনুতাপ’।

তিনি ফেলে রাখা সময়ের সেই দৃশ্য দেখার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তখন আড়াইটার মতো বাজে। তিনি খাবার খেতে বের হয়েছেন। তখনই দেখেন আবরার কাতরাচ্ছেন। তখনো ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলছিলেন, ‘ও (আবরার) নাটক করতাছে’।

নিষ্ঠুরতার এই বর্ণনা দিতে দিতে মহিউদ্দিন আবারও কেঁদে ফেলে বলেন, ‘আমি ওরে বাঁচাইতে পারি নাই। মাফ করে দিস ভাই। আমারে সবাই মাফ কইরা দিস। আমি জীবিত দেইখাও ওরে বাঁচাইতে পারি নাই’।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সকল ধরণের ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছে আবরারের সহপাঠিরা।

যার কারণে তারা ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে। এছাড়া বাকি দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। গতকাল ৮ দাবিতে আন্দোলন করলেও আজ তারা ১০ দফা দাবিতে মাঠে রয়েছে।

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।