বুয়েটের টর্চার সেল ও নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা


Published: 2019-10-08 21:32:09 BdST, Updated: 2019-11-16 07:05:22 BdST

ঢাবি ও বুয়েট লাইভঃ মেধাবীদের প্রতিষ্ঠান বুয়েট যেন এখন টর্চার সেল। এখানে মতের অমিল হলে যেতে হতো টর্চার সেলে। সেখানে করা হতো অমানবিক ও অমানসিক নির্যাতন। কাউকে হাতুরি দিয়ে কাউকে স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটানো হতো। আর অকথ্য ভাষায় মা-বাবাকে নিয়ে চলতো গালিগালাজ। লোহার রড, লাঠিসোটা তো থাকতোই।

মাঝে মাঝে পিস্তলের বাটদিয়েও মাথায় আঘাত করতো ওই মেধাবীবেশী সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। একের পর একটি ঘটনা ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছিলে নির্বিকার। ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর একের পর বেরিয়ে আসছে বুয়েট ছাত্রলীগ কর্তৃক সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যে কোন ধরনের মতের অমিল হলেই নির্যাতনের শিকার হতেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে প্রত্যেক হলেই ছিল টর্চার সেল এবং নৃশংস কায়দায় সেখানে নির্যাতন করা হত সাধারণ ছাত্রদের। ব্যতিক্রম ছিল না বুয়েটের রশিদ হল।

বুয়েট

 

গত ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ রাতে রশিদ হলে নির্যাতন করা হয় সাদ আল রাজিকে ( মেকানিক্যাল, ১৬)। ফেসবুক পোস্টের অজুহাতে নির্মম নির্যাতন করা হয় তাকে। যার ফলে তার হাত ভেঙ্গে যায়। তাকে নির্যাতন কারিদের মধ্যে ছিল মেহেদি হাসান (নেভাল আর্কিটেক্ট ১৫) এবং রাউফান রাউঝান ঝলক (সিভিল’ ১৪) সহ রশিদ হল ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

এর পূর্বে হল ফেস্টে ৫০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সি এস ই ১৫ এর এক ছাত্রকে মারা হয় যার ফলে তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত ছিল সাজিদ মাহমুদ অয়ন (সিভিল ১৪, সহ সভাপতি, বুয়েট ছাত্রলীগ), বাঁধন (সিভিল ১৪), নাবিদুল হাসান সৌরভ (সহ সভাপতি, বুয়েট ছাত্রলীগ), সিস্মাম সন্তু (নেভাল আর্কিটেক্ট ১৫) ছাড়াও রশিদ হল ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতা কর্মীরা।

এছাড়াও গত ১৪ জানুয়ারী ২০১৮ তে ক্যাম্পাস থেকে একজন ছাত্রকে ধরে জিমনেশিয়াম এর কাছে নিয়ে বেদম প্রহার করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলা রাখা হয়। এই ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও পরবর্তীতে কোন প্রকার বিচার করা হয় নি।

বরং এই ঘটনার সাথে জড়িতরা ছাত্রলীগের কমিটিতে বড় পদ পেয়ে পুরস্কৃত হয়েছে। এই ঘটনার মুল হোতা মিনহাজুল ইসলাম (মেকানিক্যাল’১৪) বর্তমান বুয়েট ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। এছাড়াও মিনহাজ আহমেদ শোভন ( সিভিল’১২), নিলাদ্রি নিলয় দাস, মেহেদি হাসান (নেভাল আর্কিটেক্ট ১৫) উপস্থিত ছিল।

এছাড়া ভিন্ন মতাবলম্বী সন্দেহে ২০১৭ সালে রশিদ হলে একাধিকবার নির্যাতন করা হয় ইউ আর পি ১৩ বিভাগের মেধাবি ছাত্র তাওহিদুল ইসলাম সেতুকে। ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হ্য় সেতুর।

এই ঘটনায় নির্যাতনকারীদের মধ্যে ছিল অনুপ বিশ্বাস অন্তু (ইউ আর পি’১১) এবং আকরাম সম্রাট (পানি সম্পদ বিভাগ’ ১৩)। পরবর্তীতে তাওহিদুল ইসলাম সেতুকে হল ছাড়া করা হয়।

এখানে ২০১৭ থেকে ঘটনা বর্ণনা করা হলেও এর পূর্বেও সাধারন ছাত্র নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়েছে রশিদ হল ছাত্রলীগ। উপরের ঘটনাগুলো ছাড়াও প্রায়শই জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হত সাধারণ ছাত্রদের।

টর্চার সেল ২১১ নম্বর কক্ষ

 

 

এছাড়া র‍্যাগিং এর নামে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের পিছনেও রয়েছে ছাত্রলীগের হাত। ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ার কারণে ও মারধরের শিকার হতে হয় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের।

এসব নির্যাতনের পিছনে জড়িত ছিল সৌরভ (সিভিল’১৬), রামকৃষ্ণ রায় তন্ময় (নেভাল আর্কিটেক্ট, ১৬), আবরার ফাইয়াজ (ম্যাকানিকাল’১৬), দিপক বসাক অর্ণব (আই পি’১৬), মাসুম (সিভিল’১৬), ফুয়াদ উন নাইম (যন্ত্র কৌশল’ ১৬), ইসতি (ক্যামিকাল’১৭), তপু ( ম্যাকানিকাল’ ১৭) এবং অমিতাভ।

ছাত্র নির্যাতনের এই সকল ঘটনায় বুয়েট প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও নির্যাতিত ছাত্র কে বাঁচাতে কোন প্রকার ভুমিকা নেয়নি প্রশাসন। উল্টো কখনও কখনও নির্যাতিত ছাত্রকে হল থেকে বহিস্কার বা পুলিসের হাতে উঠিয়ে দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটিয়েছে।

অপরদিকে নির্যাতনকারী ছাত্ররা দাপটের সাথে হল এবং ক্যাম্পাসের তাদের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

ঢাকা, ৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।