সব খুনির ছবি আছে সিসি ক্যামেরায়!ছাত্রলীগ নেতার বর্ণনা: ‍‍"বুয়েটের আবরার যে ভাবে খুন হলেন"


Published: 2019-10-07 18:19:58 BdST, Updated: 2019-10-19 04:05:01 BdST

বুয়েট লাইভঃ দেশের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় একাধিক ছাত্রলীগ নেতার নাম উঠে এসেছে। যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপরাধের হোতা হিসেবে চিহিৃত বলে বুয়েটের অনেকেই জানিয়েছেন।

তবে এবার ছাত্রলীগ নেতারা গণমাধ্যমের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে আছেন বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, উপ দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা এবং সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু। এরা সকলেই নির্যাতন সেলের সদস্য। ফাহাদসহ অনেক শিক্ষার্থীকে কারণে অকারণে মারধর ও নানান অপকর্ম করে বেড়াতে ক্যাম্পাসে।

এ ব্যাপারে বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু বলেন: ‘আবরারকে শিবিরকর্মী সন্দেহে রাত ৮টার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইল ফোনে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। আমরা সন্দেহ করতে থাকি সে শিবির হতে পারে। কিন্তু সরাসরি প্রমাণ মিলেনি।

সন্দেহভাজন খুনিরা

 

বিটু জানান, আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল এবং উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা।

জেরা করে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের ভাইদের খবর দেয়া হয় বলে জানান বিটু। খবর পেয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সেখানে যান।

হলের যে কক্ষে আবরারকে পেটানো হয়, সেই কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। তাঁদের মধ্যে যে তিনজন পলাতক, তাঁরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ।

‘একপর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো ওরা মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত তিনটার দিকে শুনি আবরার মারা গেছে,’ বলেন বুয়েট ছাত্রলীগের এই সহ-সম্পাদক। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। এই ঘটনা নিয়ে নানান ভাবে ব্যস্ত ছিলেন বিটু।

বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্ররা বলেছেন, গতরাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে নিয়ে ‘শিবির’ সন্দেহে জেরা করার পর ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন আবরারকে পেটান। এক পর্যায়ে আবরার অচেতন হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনেক্ষণ। তারা জানতে চান কেন সে ফেসবুকে এতো লেখালেখি করে। এটা এখনই বন্ধ করতেও তারা নির্দেশ দেয়।

এরপরে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আবরার ফাহাদ ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন, ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া।

যাদের দিকে সন্দেহের আঙ্গুল:
হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন।

যারা গ্রেফতারঃ
তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেনকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান, আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছি। এটি যে হত্যাকান্ড সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বুয়েটের চিকিৎসক মাশরুক এলাহী বলেন, খবর পেয়ে তিনটার সময় ঘটনাস্থলে আসি। একতলা ও দোতলার মাঝামাঝি জায়গাতে আবরারকে পড়ে থাকতে দেখি। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারি ছেলেটি বেঁচে নেই। কী কারণে আবরারের মৃত্যু হয়েছে? জানতে চাইলে চিকিৎসক এলাহী বলেন, আঘাতজনিত কারণে সে মারা গেছে। সেই সম্ভাবনাই বেশি।

শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট বলেন, ডাক্তারের ফোন পেয়ে হলে আসি। এসে দেখি ছেলেটির লাশ পড়ে আছে। ডাক্তার জানান ছেলেটি আর নেই। পরে তাকে পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চকবাজার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাত পৌনে তিনটার দিকে তারা খবর পান শের-ই-বাংলা হলের বাইরে নিচতলায় একি ছেলে পড়ে আছে। হল কর্তৃপক্ষই পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে যান তারা। ছেলেটির পরনে ছিল ট্রাউজার ও শার্ট।

ঢাকা, ০৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিজন

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।