বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিককে স্থায়ী বহিষ্কারের পাঁয়তারা!


Published: 2019-09-15 15:13:43 BdST, Updated: 2019-10-14 15:07:58 BdST

বশেমুরবিপ্রবি লাইভ: গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরপ্রবি) দ্য ডেইলি সান পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া'কে সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক আদেশে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সারাদেশের ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। একে একে নিন্দা জানাতে থাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো। সারাদেশ থেকে নিন্দা প্রস্তাব আসতে থাকলেও জিনিয়ার পাশে দাঁড়ায়নি তারই নিজের সংগঠন বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির নেতারা।

সাধারণ সদস্যদের বারংবার অনুরোধ স্বত্বেও বিবৃতি দিতে নানা রকম টালবাহানা করতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুগত এই সংগঠনের নেতারা। উপায়ন্তর না দেখে সাধারণ সদস্যদের একাংশ তাদের সহকর্মী জিনিয়ার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিবৃতি দেয়। এরপর সমিতির নেতারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বসে মীমাংসা করবেন জানিয়ে শনিবার বিকাল ৫টায় মিটিং ডাকেন।

মিটিং এর শুরুতেই সমিতির সদস্যদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে জমা নেওয়া হয় যাতে উপস্থিত সাংবাদিকরা রেকর্ড করতে না পারে। এরপর জিনিয়ার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। জিনিয়া বক্তব্য শেষ করার আগেই তাকে মিটিং রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। অনেকটাই তাকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলে প্রশাসন। তার ডিফেন্সে তাকে কোন প্রমাণ বা আর্গুমেন্ট দিতে দেয়া হয়নি। প্রায় ১৪-১৫ জন প্রক্টরিয়াল বডির বিপরীতে মাত্র ৮ জন সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও তিনজন বিতর্কিত সাংবাদিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সদস্যরা মতামত দিতে গেলেও তাদেরকে জোরপূর্বক বসিয়ে দেওয়া হয়।

তখন জিনিয়ার পক্ষ অবলম্বন করে কথা বললে সবাইকে হুমকির পাশাপাশি ডুজাসহ সাংবাদিক ফেডারেশনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব ফেডারেশন দিয়ে কিচ্ছু হবে না মর্মে ব্যঙ্গোক্তি করেন তারা।

প্রশাসনের সাথে মিটিং চলাকালীন বশেমুরপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নিজে জিনিয়াকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সমিতির দপ্তর সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ এই প্রস্তাবে সায় দিয়ে সবার স্বাক্ষর গ্রহণে উদ্যত হন। এতে সাধারণ সদস্যরা প্রতিবাদ করলেও পরবর্তীতে প্রশাসন সমিতি থেকে জিনিয়ার অব্যাহতি পত্র তৈরি করে সমিতির তিন বিতর্কিত সাংবাদিকের মাধ্যমে এবং ফোর্স ও ব্ল্যাকমেইল করে এতে বাকি সাংবাদিকদের স্বাক্ষর আদায় করে নেয়।

যেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিন্দুমাত্র সাঁয় ছিলোনা। সমিতির একজনকে দিয়ে অব্যাহতি পত্র পাঠ করায় এবং তার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত অব্যাহতি পত্র তারা নিজেরাই সাংবাদিক সমিতির পেজে আপলোড দেয় তিন বিতর্কিত সাংবাদিকের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, মিটিং এর আগে সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জিনিয়াকে বহিষ্কারের ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে গোপন মিটিং করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে রুমের বাইরে ভিসির গুন্ডাবাহিনি হিসেবে পরিচিত আরিফুল ইসলাম সাকিবের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল পাহারায় ছিলো। এরা সাংবাদিকদের বেশ কয়েকজনকে হুমকি প্রদান করে।

উল্লেখ্য, আরিফুল ইসলাম সাকিব কয়েকদিন আগে চিকিৎসা সহায়তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ ফান্ড থেকে ২ লাখ টাকা এবং সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ৪০ হাজার টাকা ভিসির নিকট থেকে গ্রহণ করে।

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।