এবার শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও নেই ঢাবি!


Published: 2019-09-13 14:05:29 BdST, Updated: 2019-10-14 14:45:07 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : এবারও বিশ্বের প্রথম সারির শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ৬০০ থেকে ৮০০-এর মধ্যে। তবে এর দুই বছর পরই এটির অবস্থান হঠাৎই নেমে যায়। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজারেরও পর। লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রতিবছর বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে র‌্যাংকিং প্রকাশ করে, তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজারের পর।

এদিকে চতুর্থবারের মতো এ বছরও তালিকায় প্রথম স্থানটি দখলে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তালিকাটিতে ৯২টি দেশের এক হাজার ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই স্থান পেয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম, সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি, এ খাত থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতাসহ পাঁচটি মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

র‌্যাংকিংয়ে বিদেশি ছাত্রের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে শূন্য। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৪ হাজার ১০৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী নেই কিংবা থাকলেও সেই সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ৬০০ থেকে ৮০০-এর মধ্যে। তবে এর দুই বছর পরই এটির অবস্থান হঠাৎই নেমে যায়। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজারেরও পর।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে সাময়িকীটি এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও উল্লেখ ছিল না। সে সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। এর মধ্যে আগের বছরগুলোর তুলনায় গবেষণা, উদ্ধৃতি এবং আয়—এ তিনটি খাতে উন্নতি হলেও ২০১৬ সালের পর থেকে ব্যাপক হারে নেমে গেছে শিক্ষার পরিবেশের গ্রাফ চিত্র।

তালিকা অনুযায়ী দেখা যায় যে বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ ভারত ও পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ ভালো করেছে। এ তালিকায় ৩০০ থেকে শুরু করে এক হাজারের মধ্যে রয়েছে ভারতের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এমনকি রাজনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অস্থিতিশীল দেশ পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। তালিকায় এক হাজারের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে প্রথম ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম ইউনিভার্সিটি।

এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে চীন ও জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তালিকায় উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ ছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। যদিও বরাবরের মতোই এই তালিকায় কর্তৃত্ব করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ বছরের তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটিই যুক্তরাষ্ট্রের। যার মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও ইয়েল ইউনিভার্সিটি। এ বছরও তালিকায় প্রথম স্থানটি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, তৃতীয় স্থানে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি আর দশম স্থানে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন।

তালিকা নিয়ে এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে যে যুক্তরাজ্যের কথিত ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ অর্থাৎ অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ এবং লন্ডন ইউনিভার্সিটি বরাবরের মতোই খুব ভালো করছে। তবে এর ফলে যুক্তরাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনাম ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যাপক হারে উন্নতি করছে। ২০১৬ সালের পর থেকে প্রথম ২০০টির মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৪টি থেকে কমে ২৮-এ নেমে এসেছে। কিন্তু এ তালিকায় জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা তিনটি থেকে বেড়ে ২৩টি হয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এর মানে হচ্ছে জার্মানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

[কার্টেসি : বিবিসি]

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।