"২৩ আগস্টের ঘটনা সেনাবাহিনী ও ঢাবির বির্তক নয়" (ভিডিও)


Published: 2019-08-23 15:57:34 BdST, Updated: 2019-09-20 18:27:54 BdST

ঢাবি লাইভ: ২০০৭ সালের ২০-২৩ আগস্টের ঘটনা সেনাবাহিনী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বির্তক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান।

শুক্রবার সকাল ১১টায় টিএসসি অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কালো দিবস’ পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ঢাবি ভিসি বলেন, ‘‘কেউ কেউ আমরা ভুলবশত বলে ফেলি যে, এটি ছিল সেনাবাহিনীর আক্রমণ। কথাটি ভুলক্রমে উপস্থাপিত হয়। এটি সেনাবাহিনীর কোন আক্রমন নয়। এটি সেনাবাহিনী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোন বিতর্ক নয়।

তিনি বলেন, এটি ছিল অন্য একটি বিষয়। সেনাবাহিনী দেশের গৌরবের একটি অংশ। সেনাবাহিনী আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের একটি প্রতীক। এবং একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও দেশের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেই সময়ের এই ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে আক্রমন, পাল্টা আক্রমণের কোন ঘটনা নয়। আমরা এই বিষয়গুলোকে যেন গুলিয়ে না ফেলি।’’

আলোচনা সভায় ভিসি সেই কালো দিবসের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘‘২০ অগাস্ট থেকে ২৩ অগাস্ট পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল। এবং এর চুড়ান্ত পরিণতি হলো ২৩ অগাস্ট। সেটি হলো এরকম যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলা চলছিল। সেই খেলাকে কেন্দ্র করে, সেখানে আমাদের সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প ছিল, সেই ক্যাম্পের দুই একজন সদস্যের সাথে আমাদের শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে নির্যাতিত হন। এবং সেই নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা তারা তখন প্রতিবাদ করে। এটি হল আমাদের ইতিহাসের একটি শিক্ষা।’’

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘‘কালো দিবস উদযাপনের মূল কারণ হলো যে, আমরা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবো। শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি হলো এরকম যে, সেদিন যারা কর্তৃপক্ষের অবস্থানে ছিল, সেদিন যারা ব্যবস্থাপনায় ছিল, সেদিন যারা প্রশাসনে ছিলেন, সেটি হোক সরকারি প্রশাসন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সেই প্রশাসনের অনেক শিক্ষা গ্রহণের কথা ছিল সেটি হল এরকম- নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা যখন দাবি তুললো, সেই দাবিগুলো ছিল ন্যায়সঙ্গত। যারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা সেই নির্যাতনের প্রতিকার চায়। তখন তারা চেয়েছিল সেটির সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করা হোক। তারা তখন চেয়েছিল যে, যারা আক্রমণকারী সদস্য তারা যেন ক্ষমাপ্রার্থণা করেন।

শিক্ষার্থীদের এই ধরনের ন্যায়সঙ্গত বক্তব্য ছিল। আমরা সেদিন যদি যারা যেখানে প্রশাসনে ছিল, যারা যেখানে ব্যবস্থাপনায় ছিল, সেটা যদি ওইদিন সঠিকভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হতাম যে, শিক্ষার্থীদের দাবি কি? সেই দাবিগুলো যদি পুরণ করার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে পরবর্তী ঘটনাগুলো ঘটতো না। ফলশ্রুতিতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা সেটিই হবে আজকের দিবসের মূল তাৎপর্য।’’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, ঢাবি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের পক্ষ থেকে প্রফেসর আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ্, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, ডাকসু’র ভিপি মো. নুরুল হক, নির্যাতিত ছাত্র জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সরোয়ার মোর্শেদ, কারিগরী কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন এবং ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: এনামউজ্জামান।

ভিডিও:

ঢাকা, ২৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।