অধিভুক্তি বাতিলে প্রশাসনের তৎপরতা দেখছেন না আন্দোলনকারীরা


Published: 2019-08-21 21:47:01 BdST, Updated: 2019-09-20 14:29:07 BdST

মো. রাসেল সরকার, ঢাবি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সরকারের কোনো তৎপরতা দেখেছেন না অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে এসে প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিল চাই কমিটির নেতৃত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সাত কলেজ সমস্যা সমাধানে গঠিত সুপারিশ কমিটি শীঘ্রই সিদ্ধান্ত না জানালে আবারো অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে যেতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের মুখপাত্র শাকিল মিয়া ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত রাখি। সাত কলেজ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে প্রথমে ১৫ দিন সময় নিলেন, তারপর আবার ৩০ কার্যদিবস সময় চাইলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ ভিসি স্যার যখন আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, তখন আমরা তাঁর কাছে এর সমাধান আশা করে ছিলাম। কিন্তু এর সমাধানে কোন ইতিবাচক কার্যকলাপ দেখছিনা। এ মুহুর্তে আমরা বিষয়টা নিয়ে হতাশ।

পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে শাকিল মিয়া ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমরা যারা আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলাম, আগামী সপ্তাহের বুধবার বা বৃহস্পতিবারে আমরা বসবো এবং তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।

আন্দোলনকারীদের একজন মুস্তাকিন আহমেদ আশিক জানান, ভাববেন না আমরা দমে গেছি। প্রতারণা করে দমানো যাবে না আমাদের। শীঘ্রই আমরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবো। অতীতের মতো একসাথে সামনে অগ্রসর হবো। সামনে সমাবর্তন এবং ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা ঢাবি নিতে পারবে না, সমাবর্তন একসাথে হওয়া যাবে না।

সাত কলেজ অধিভুক্তি নিয় সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে গত ২৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি সুপারিশ কমিটি গঠন করেন।

কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে মাত্র একবার। কিন্তু কার্যকর কোনো সিদ্ধান্তে পৌছতে পারেননি ওই কমিটি।এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন আন্দোলনকারা।

এ বিষয়ে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদকে একাধিক বার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে সুপারিশ কমিটিতে থাকা ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ঈদের পূর্বে গত ২৯ জুলাই সাত কলেজের অধিভুক্তির বিভিন্ন সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের দাবির সুষ্ঠু সমাধান কল্পে কার্যকর সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে ভিসি কর্তৃক গঠিত কমিটির একবার বৈঠক হয়েছিল। এতে কমিটির সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন সুপারিশ করেছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ডাকসুর ভিপি বলেন, বৈঠক আমি মত দিয়ে ছিলাম সাত কলেজকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধীনে রাখা উচিত না। তবে যারা রানিং (চলমান) ভর্তি আছে, তারা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্যে তাদেরকে ঢাবির অধীনে কার্যক্রম শেষ করা। কিন্তু নতুন সেশন থেকে ঢাবির অধীনে ভর্তি না করা।

তিনি বলেন, বৈঠকে কেউ কেউ সাত কলেজের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনের সুপারিশ করেন। আবার কেউ অধিভুক্ত রাখার কথাও বলেছেন। আলোচনার পর এমন একটি মতামত হয়েছিল যে, যারা সাত কলেজের শিক্ষার্থী আছেন এবং যারা অধিভুক্তি বাতিল চাচ্ছেন, তাদের সাথে বৈঠক করে একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেহেতু ঈদের ছুটি ছিল, বিষয়টি নিয়ে আর বসা হয়নি। তবে ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে আমি বিষয়টি নিয়ে কমিটির সাথে শীঘ্রই কথা বলবো।

অন্যদিকে ডাকসুর জিএস এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছিলেন আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যদি সুষ্ঠু সমাধান না হয় তাহলে আন্দোলনকারীদের সাথে স্লোগান ধরবেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা যায়নি তাঁর সাথে।

উল্লেখ্য গত ১৯ জুলাই থেকে টানা চার দিন সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলসহ চার দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পরে স্থবিরতা কাটাতে শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে কার্যকর সমাধানের আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ডাকসুর নেতৃবৃন্দসহ সরকারের উর্ধ্বতন মহল। এতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যান।

পরে অধিভুক্তি নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার ‘বৈজ্ঞানিক’ সমাধানে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের কমিটি করেন বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামান। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

তবে গত ২৯ জুলাই কমিটির এক সভায় এ সময়সীমা ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন প্রফেসর এ এস এম মাকসুদ কামাল, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট), বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর প্রফেসর মুহাম্মদ মাঈনুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক ও জিএস গোলাম রাব্বানী।


ঢাকা, ২১ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।