"এক বছরে আট বার হামলার শিকার ভিপি নুর"


Published: 2019-08-19 14:59:56 BdST, Updated: 2019-09-16 02:50:21 BdST

ঢাবি লাইভ: গত এক বছরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা মোট আট বার হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ভিপি) নুরুল হক নুর। এতে প্রাণনাশের শঙ্কাবোধ করছেন তিনি। এসব হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নুর।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব হামলার কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুর বলেন, গত ৩০ শে জুন ২০১৮ থেকে এ পর্যন্ত ভিপি হওয়ার পূর্বে ৩ বার(৩০ শে জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে, ২৪ জানুয়ারি বাংলা একাডেমি ও ১১ ই মার্চ রোকেয়া হলে) এবং ভিপি হওয়ার পর ৫ বার (১২ ই মার্চ টিএসসি, ২ এপ্রিল এস.এম হল,২৫ মে ব্রাক্ষণবাড়িয়া, ২৬ মে বগুড়া ও ১৪ অগাস্ট উলানিয়া) মোট ৮ বার ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হই।

প্রতিবার প্রকাশ্যে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটলে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বরং কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতায় চেয়েও পাওয়া যায় নি। পুলিশের নিরব ভূমিকা ছিলো সন্ত্রাসীদের সহায়ক।

তিনি বলেন, গত ১৪ ই আগস্ট চর বিশ্বাস থেকে আমার বোনের বাড়ি দশমিনা যাওয়ার পথে উলানিয়া বাজারে পটুয়াখালী - ৩ এর সাংসদ এস.এম শাহজাদা সাজুর নির্দেশে চাঁদাবাজ ও মাদকব্যবসায়ী, গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ এর নেতৃত্বে তার ভাই নুরে আলম, লিটু পেদা, আব্বাস পেদা, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রণো, পৌর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক,উলানিয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল, যুবলীগ নেতা ইদ্রিস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ফরিদ আহসান কচিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ আসিফ, ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ, তূর্য্যসহ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড,স্টীলের পাইপ ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় প্রায় ২০-২৫ জনকে আহত, ১০ টি মটরসাইকেল ভাংচুর, ২ টি ডিসএল আর ও ৮৯ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। আহতদের মধ্যে অমি নিজে, রবিউল, ইব্রাহিম, জাহিদ, রিয়াজসহ ৫ জন গুরুতর আহত হই।

সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি আমাকে চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছে। ডাক্তার সিটি স্ক্যান ও ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করার জন্য বরিশাল মেডিকেলে রেফার করলেও সন্ত্রাসীরা এবং পুলিশ আমাকে জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দেয় এবং এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য আমাকেও আমার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ ১৪ অগাস্টের ঘটনার দিন হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় গলাচিপা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও ওসি কোন ধরণের সহযোগিতা করেনি।এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা চালায়এবং পুলিশ ও আমার আত্নীয়,সমর্থকদের গ্রেফতারের হুমকিও দেয়। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নগ্ন হামলা চালালেও ওসি হামলার কথা অস্বীকার করে।

এমতাবস্থায় আমি আমার প্রাণনাশের শঙ্কাবোধ করছি। ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ, আপনারা আমার তথা অন্যায়ের-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন। আমি কোন অন্যায়- অপরাধ করিনি।

শুধুমাত্র অন্যায় - অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেই আমি ও ' ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এর নেতা-কর্মীরা বার বার ক্ষমতাসীন দলের রোষানলের স্বীকার হয়েছি। ক্ষমতাসীন দলের নেতা ছাড়াও ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি।

এসময় তিনি হামলাকারীদের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ,কিছুদিন আগেও বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আপনি নিজেই বলেছেন সরকারের সমালোচনা করতেই বাধা নেই,দেশ ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।

তাই আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ ভিন্নমতের মানুষের উপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আপনার দলের নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। দেশে শাসন প্রতিষ্ঠায় দলীয় প্রভাবমুক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর করুন।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এর নেতা-কর্মীদের অযথা হয়রানি বন্ধ করুন এবং যারা হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে অতিদ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিন। কারণ অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করে তার মুখ বন্ধ রাখা যায় না। যা জাতির পিতাই বলে গেছেন 'বাঙালি জাতিকে তোমরা দাবায়া রাখতে পারবা না।

ঢাকা, ১৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।