মাকে নিয়ে আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল তুবার!


Published: 2019-07-22 13:11:20 BdST, Updated: 2019-08-19 08:14:42 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : আমেরিকায় যাওয়ার জন্য তার সব কাগজপত্র প্রস্তুত ছিল। ইতোমধ্যে গ্রিনকার্ড পেয়েছিলেন বাড্ডায় নৃশংসতার শিকার তাসলিমা বেগম রেনু। সামনের বছর চলে যাওয়ার কথা ছিল। তার বড় ভাই বিষয়টির সব কিছু সম্পন্নও করে রেখেছিলেন। ছোট মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে সবশেষ হয়ে গেছে তার। ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে নৃশংস কিছু বিবেকহীন লোক। মেয়েকে সাথে নিয়ে সুদূর আমেরিকায় যাওয়া হল না রেনুর।

জানা গেছে, মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর তথ্য সংগ্রহে গত শনিবার সকালে গুলশানের উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েন রেনু। কিন্তু সেই তথ্যই নেয়াই তার জীবনের জন্য কাল হয়ে গেল। মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানো আর আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন তার পূরণ হলো না। তার আগেই তাকে ছেলেধরা গুজবের বলি হতে হলো। কিছু অতিউৎসাহী প্রকাশ্যেই পিটিয়ে হত্যা করল রেনুকে।

এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় কয়েকজন যুবককে শনাক্ত করেছে পুলিশ। স্কুলের দোতলা থেকে করা একটি মোবাইলের ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ঘটনায় এ খবর লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ দিকে ঘটনাস্থলে ধারণকৃত একটি মোবাইলের ফুটেজে দেখা যায়, নিহত রেনুকে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার পর মুহূর্তেই লোক জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। তবে স্থানীয় চার-পাঁচ যুবক তাকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল ও এলোপাতাড়ি লাথি মারছিল। ভিডিওর ৩-৪ মিনিটের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্কুলের অভিভাবকেরা জানান, অনেকে ভিড় করলেও স্থানীয় তিন-চার যুবকই মূলত তাকে মারধর করে হত্যা করেছে। অন্যরা পেছন থেকে ‘মার, মার’ চিৎকার করছিল।

রেনুর বড় বোন নাজমা আক্তার বলেন, এভাবে কি একজন শিক্ষিত মানুষকে পিটিয়ে মারা সম্ভব! আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। যারা আমার বোনকে পিটিয়ে মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই। আর যেন কোনো মানুষকে কেউ এভাবে পিটিয়ে হত্যা না করতে পারে। একজন মানুষতো তার সন্তানকে স্কুলে ভর্তির জন্য যেতেই পারে। শিক্ষকদের সাথে কথা বলতেই পারে। তার জন্য কি তাকে ছেলেধরা ভেবে পিটিয়ে মারতে হবে! আমরা এর বিচার চাই। এখন তার সন্তানদের কি হবে, কে দেবে তাদের মায়ের মমতা। কাকে তারা আম্মু বলে ডাকবে, কাকেই বা জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে। এমন কথাগুলো বলেই তিনি কান্নায় জড়িয়ে পড়েন।

ঢাকা, ২২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।