ঢাবির হলে প্রোগ্রাম করতে না দেয়ায় ডাকসুর ক্ষতি ৪০ হাজার


Published: 2019-07-17 13:28:34 BdST, Updated: 2019-08-19 08:14:23 BdST

ঢাবি লাইভ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে মেয়েদের হলে সপ্তাহব্যাপী ‘Awareness Campaign on Cyber Safety & 999’ প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয়নি।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আগামী ১৬ জুলাই থেকে ২২ জুলাই'১৯ সপ্তাহব্যাপী সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরী সেবা'৯৯৯ এর প্রশিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করার উদ্যোগ নেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।মেয়েদের পাঁচটি হলে পাঁচদিন, সেন্ট্রালি ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য একদিন এবং সর্বশেষ দিনে Thanks giving ceremony ও সাথে পুরষ্কার বিতরণী আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে সাইবার সচেতনতা প্রোগ্রামে প্রথমদিনেই অদৃশ্য ইশারায় পণ্ড হলে প্রোগ্রামটি।

জানা যায়, প্রোগ্রামটির জন্য ডাকসুর বাজেট থেকে এক লক্ষ টাকা বাজেট পান।প্রোগ্রামের আয়োজন বাবদ ইতোমধ্যে ৪০ হাজার টাকার উপরে খরচ করেন বলে জানান আখতার হোসেন।কিন্তু প্রোগ্রামটি না করতে পেরে ডাকসুর বাজেট থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ৪০ হাজার টাকা জলে গেল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মশালাটির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলে। বিশেষ করে ছাত্রীরা যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কোনো ধরনের যৌন হয়রানির শিকার না হয় এবং পাশাপাশি সচেতন হয়, সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ক্যাম্পেইনটির আয়োজন করা। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড সেইফটি ট্রেইনারগণ‍ আসার কথা ছিল।

নিয়ম অনুযায়ী হল সংসদ ও হল প্রশাসনের সাথে কয়েক দফায় আলোচনাও করেন তিনি। আজকের প্রোগ্রামে হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা নাসরিনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।প্রোগ্রাম উপলক্ষে প্রচার প্রচারণা, ব্যানার, নাস্তা সবকিছুই আয়োজন করা হয়।
কিন্তু প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে প্রোগ্রামে হল প্রাধ্যক্ষ থাকতে পারবেন না বলে জানান। ফলে ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক তিনি না থাকতে পারলেও অন্য কোন ম্যামকে থাকতে অনুরোধ জানান এবং প্রোগ্রামটি করার অনুমতি চান। হল প্রাধ্যক্ষ ডাকসুর অন্যরা বিষয়টি জানেন কিনা সেটা জিঙ্গেস করেন এবং সবার সাথে সমঝোতা করে পরে অন্য সময় এ প্রোগ্রাম করতে বলেন।

এ বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, সাইবার সচেতনতা নিয়ে প্রোগ্রামটি করার জন্য আমি ডাকসু থেকে এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাই। ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী লিখিতভাবে অনুমতিও দিয়েছেন। প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবে বলে ভিসি স্যার মৌখিকভাবে অনুমতিও দেন। কিন্তু আজকে যখন প্রোগ্রামের দিন আসলো সব আয়োজন সম্পন্ন, আমাকে প্রোগ্রাম করতে দেয়া হচ্ছে না। ভিসি স্যারকে জানালে তিনি মেয়েদের হলে না করে অন্যত্র বাইরে প্রোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।

আখতার অভিযোগ করেন ডাকসু অন্য নেতাদের অসহযোগিতায় তিনি প্রোগ্রাম করতে পারেননি। তিনি বলেন, প্রোগ্রাম বিষয়ে এর আগে থেকেই সব কিছু আমি ডাকসুর সবাইকে অবহিত করি। প্রোগ্রামে থাকার জন্য সাদ্দাম হোসেনকে বারবার কল দেয়া হলেও তিনি কল ধরেননি।

তিনি বলেন, আমি চেষ্টার ত্রুটি করিনি। কাজ আর ইচ্ছাশক্তি আমাকে ঘিরে রেখেছিল। কিন্তু, শেষবেলায় এসে আমাকে করতে দেয়া হয়নি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে জড়িত অন্য নেতাদের অভিযোগ, মেয়েদের হলে সংগঠনটির জনপ্রিয়তার জন্যই সেখানে তাদের নেতাদের প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয়নি। ডাকসু নির্বাচনে মেয়েদের অধিকাংশ হলে একচেটিয়া ভোট পায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে নির্বাচন করা ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।

এ বিষয়ে কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা নাসরিন বলেন, তাদেরকে প্রোগ্রাম করার বিষয়ে মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার পারিবারিক কাজ থাকায় আমি থাকবো না বলে জানাই এবং সবার সাথে আলোচনা করে অনুষ্ঠান করতে বলি। কিন্তু তারা সমঝোতায় আসতে পারেনি তাই মনে হয় প্রোগ্রাম হয়নি।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।