বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে কাল, ফিরবে না কেবল শিক্ষার্থী মুন্নি


Published: 2019-06-15 20:31:45 BdST, Updated: 2019-11-12 09:31:54 BdST

বশেমুরবিপ্রবি লাইভ: সকলেই ক্লাসে ফিরবেন। কোলাহলে সময় কাটাবেন। আড্ডা আর স্টাডি প্ল্যানে থাকবেন ব্যস্ত। কিন্তু এসব কিছু থেকে দুরে থাকবেন মুন্নি নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী । তিনি ২৬ দিনে ধরে হাসপাতালে রয়েছেন। তার জ্ঞান ফিরেনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসচেতন বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী মুন্নি।

১৬ দিনের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, শব-ই-কদর এবং ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষে আগামীকাল থেকে যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা ও একাডেমিক কর্যক্রম শুরু হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি গোপালগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, রমজান ও পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট ১৬ দিনের দীর্ঘ ছুটি শুরু হয়।

শিক্ষার্থীরা ঈদ আনন্দ ও ছুটি শেষে প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরলেও ফিরছে না শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলায় আইসিইউ বিভাগের ৪নং বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের এ মেধাবী শিক্ষার্থী।

মুন্নির বড় ভাই হাসিবুল ইসলাম রুবেল জানান, খুলনা শেখ আবু নাসের হাসপাতাল থেকে ১লাখ ৫৮ হাজার টাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বোনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নিয়ে আসি।

কিন্তু আজ ২৬ দিনেও মুন্নির শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। দিন দিন মুন্নির সারা শরীর নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে এবং শরীরে প্রচুর খিচুনি উঠছে। কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুন্নির পিতামাতা ও ভাই।

মুন্নির চিকিৎসা ব্যয়ভার নিয়ে প্রশ্ন করলে রুবেল বলেন, শেষ হিসাবানুযায়ী আনুমানিক ৭ লক্ষ টাকা খরচ করেছি। বোনের চিকিৎসা জন্য বশেমুরবিপ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন ২ লক্ষ টাকা সাহায্য করেন এবং তিনি মুন্নিকে হাসপাতালে দেখতেও আসেন।

কিন্তু গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের সিনিয়র নার্স শাহানাজ বেগম ও কুহেলীকা আজো তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। এমনকি মুন্নির শারীরিক অবস্থা জানতে একটি ফোন কলও করেনি।

প্রতিদিন মুন্নির চিকিৎসার খরচ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঔষধ বাবদ সকালে অনন্ত ৭ হাজার, দুপুরে ১হাজার ও সন্ধ্যায় ৭হাজার এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ প্রতিদিন ২০হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তিনি সকলের কাছে বোনের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য গত ২১মে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ সকালে রোগীর ফাইল না দেখে ভুল করে গ্যাসট্রাইটিসের ইনজেকশন সারজেলের পরিবর্তে অ্যানেস্থেসিয়ার (অজ্ঞান করার) ইনজেকশন সারভেক পিত্তথলীতে পাথর জনিত সমস্যায় চিকিৎসাধীন মুন্নির শরীরে পুশ করেন।

এতে জ্ঞান হারিয়ে রোগীর অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে খুলনা শেখ আবু নাসের হাসপাতালে পাঠান কিন্তু সেখানেও মুন্নির শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তার পরিবার।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো: মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুল চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. তপন মন্ডল ও দুই নার্সকে আসামী করে একটি মামলা করেছে মুন্নির পরিবার। আমরা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুন্নি

 

কিন্তু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: চৌধুরী ফরিদুল ইসলাম তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী জানান, ভুল চিকিৎসায় শাহানাজ বেগম ও কুহেলীকার সম্পৃক্ততা থাকলেও ডা. তপন মন্ডলের ভুল চিকিৎসার সাথে কোন সম্পৃক্ততা নাই।

এদিকে ঈদের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ছুটি চলাকালীন সব আবাসিক হলগুলো খোলা ছিল।

বঙ্গমাতা, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট মহোদয়গণ জানান, ছুটিতে হলগুলো খোলা ছিল ও ঈদের দিন নেপাল, অন্য দেশ থেকে আগত এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভোজনের আয়োজন করা হয়।

ঈদ শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে মুন্নিকে না পেয়ে সমাজ বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মুন্নির শিক্ষা জীবন ধ্বংসের পাশাপাশি দিন দিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে সে। আমরা মুন্নির সুচিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ঢাকা, ১৫ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।