র‌্যাগিংয়ের শিকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আইসিইউতে ভর্তি


Published: 2019-05-12 20:17:04 BdST, Updated: 2019-05-22 01:09:23 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ছাত্র র‌্যাগিংয়ে শিকার হয়ে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছে। ওই ছাত্রের নাম ওয়াসিফ কাদের। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন চিকিৎসাধীন ছাত্রের বাবা প্রফেসর ডা. আবদুল কাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার বলেন, ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৪ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে র‌্যাংগিয়ের নামে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হলে ওয়াসিফ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু ঘটনাটি তাদের কাছে গোপন রাখা হয়। দু’দিন পর ওয়াসিফের বন্ধুদের কাছে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে হাজির হন পরিবারের সদস্যরা। সেখান থেকে তাকে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে ওয়াসিফের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া তার ব্লাড প্রেসার বেড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সিনিয়ররা ওয়াসিফসহ ১০-১২ জন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩০ নম্বর নর্থ হোস্টেলের হলে নিয়ে গিয়ে নানা ধরনের হেনস্থা করে। এক পর্যায়ে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হলেও নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের ওয়াসিফকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়।

তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য ও হাসি-তামাশা করে র‌্যাগিং গ্রুপের সদস্যরা। পরে তাকে একশ’বার কান ধরে ওঠবস করতে বলা হয়। কিছুক্ষণ ওঠবস করার পর ওয়াসিফের পায়ের মাংসপেশি শিথিল হয়ে আসে। এতে ওয়াসিফ ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়লে সহপাঠীরা তাকে ধরে কোনোমতে হোস্টেলের কক্ষে নিয়ে যায়। বাইরে জানাজানি হলে পুলিশ আসতে পারে এই ভয়ে ঘটনা চেপে যেতে বলেন সিনিয়ররা। কিন্তু ওয়াসিফের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়লে বাসায় খবর দেয় তার বন্ধুরা।

ওয়াসিফের বাবা প্রফেসর ডা. আবদুল কাদের জানান, ‘আমার ছেলের ওপর যে ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। নির্যাতনের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, যথাসময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে তার শারীরিক অবস্থা যে কোনো দিকে মোড় নিতে পারত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।


ঢাকা, ১২ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।