বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই বিভাগে ক্লাস নিচ্ছেন না শিক্ষকরা!


Published: 2019-05-11 17:44:59 BdST, Updated: 2019-05-22 01:39:17 BdST

বশেমুরবিপ্রবি লাইভ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে প্রায় ৩৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ক্লাস এবং পরীক্ষা কার্যক্রম।

সিএসই বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই বিভাগে সর্বশেষ ক্লাস হয়েছিল ৩ এপ্রিল। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীরা একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত আক্কাস আলীর বিচারের দাবিতে আমরা ৭ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু করি এবং ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আক্কাস আলীকে চার বছরের জন্য চাকরিচ্যুত করলে আমরা ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের শিক্ষকরা কোনো ক্লাস নেননি।

মাঝে একদিন একটি ক্লাস হলেও পরে আবার ক্লাস বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে জানতে পারি ওই ক্লাসটি শিক্ষকদের ভুল বোঝাবুঝির জন্য হয়েছিলো। ওই শিক্ষার্থী আরো জানান, তদন্ত চলাকালীন আক্কাস আলীকে নিয়ে দেয়া কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য শিক্ষকরা তাদের শাস্তি দাবি করছেন এবং শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত তারা ক্লাস নিবেন না বলে জানিয়েছেন।

ক্লাস না নেয়ার কারণ হিসেবে সিএসই বিভাগের লেকচারার হুসনুল আজরা জানান, আক্কাস আলীর যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকরা তাদের নিয়ে বিভিন্ন কথা লিখেছে যেগুলোতে তাদের মানহানি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।

ক্লাস বন্ধের বিষয়ে সিএসই বিভাগের বর্তমান সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন জানান আন্দোলন চলাকলীন সময়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেয় যার ফলে শিক্ষকরা কিছুদিন ক্লাস বন্ধ রেখেছিল। তবে গত বুধবার আমরা শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে ক্লাস পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নুরুদ্দীন আহমেদ সাক্ষরিত একটি আদেশপত্রে সিএসই বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়। তারা হলেন মেহেদী হাসান, বিষ্ণু চন্দ্র সরকার, মো. মেজবাউল হাসান, মো. রাশেদুজ্জামান সিকদার ও সুকান্ত কুমার ঘোষ।

তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে তদন্ত চলাকালে ফেসবুকে অশালীন স্টাটাস দেয়ায় কেনো তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবেনা। ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত উত্তর প্রদান করতে বলা হয়েছে।

তবে ফেসবুকে অশালীন স্টাটাস দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন তারা ফেসবুকে কোনোরকম অশালীন স্ট্যাটাস দেননি। তারা কেবলমাত্র আন্দোলনকে বেগবান করতে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়েছেন এবং সংবাদ শেয়ার করেছেন।

উল্লেখ্য, ৪ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্কাস আলীর দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার বিষয়টি ভাইরাল হলে এনিয়ে ক্যাম্পাসলাইভে নিউজ করা হয়। পরে ৭ এপ্রিল থেকে আক্কাস আলীর স্থায়ী চাকরিচ্যুতির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল আক্কাস আলীকে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারসহ সকল ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে চার বছরের জন্য অব্যাহতি প্রদান করে।

 

ঢাকা, ১১ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।