খাবারের দোকান নিয়ে বহিষ্কারের হুমকি, ঢাবি ছাত্রীর স্ট্যাটাস ভাইরাল!


Published: 2019-04-23 11:11:19 BdST, Updated: 2019-05-19 17:19:46 BdST

ঢাবি লাইভ : মামার অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে খাবার বিক্রি করছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারজানা সুলতানা। খাবার বিক্রি করে তিনি তার মামার চিকিৎসার খরচ জোগাতে চেয়েছিলেন। এভাবে খাবার বিক্রি করায় তিনি এবার ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি খেলেন। তাকে আর টিএসসিতে খাবার নিয়ে বসতে দেয়া হয়নি। এতে তার সব খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। তার রান্না করা ১৭ কেজি সামুদ্রিক বেলে (কেজি ৪২০) ও ১৫০-২০০ ডিম গরমে নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে প্রক্টর বলেছেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কেন এসব করবে? তাদের সাহায্য দরকার হলে আমাদের কাছে আসবে। আমরা সেগুলো দেখব।’

এদিকে খাবারের দোকান নিয়ে ঢাবি ছাত্রী ফারজানার একটি আবেগি ফেইসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘দিন রাত সমান করে যন্ত্রের মত খেটে গেলাম ক’দিন! বিনিময়ে পেলাম ছাত্র বাতিলের থ্রেট এবং গুণধর প্রক্টরের ক্ষমতার বড়াই দেখা! গতকাল অনেকে কল দিয়ে ছাত্রত্ব বাতিলের থ্রেট নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে আসলে প্রশাসনকে ভাল সাজিয়ে বলেছিলাম এসব অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে আপনাদের ভাবতে হবে না, সবাই পাশে থাকতে চেয়েছে!’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমি যে কতবড় ভুল করেছি; তা আজ প্রক্টরের সাথে ২০-৩০মিনিট ফোনে আমার বিতর্ক সেশনের মাধ্যমে প্রমাণ পেলাম। এত কথার পরও তিনি আমাকে বলেন, আমি কেন তাদের কাছে সাহায্য চাইনি! কি আজব। আমি বললাম আমি ঢাবির স্টুডেন্ট; আপনি বলে দিয়ে সেবা নেয়াবেন। কিন্তু কত মানুষ ভয়াবহ অসুখে আছে তাহলে তাদেরও কি আপনি বলে দেন? এত লিংক লাগবে কেন? সাধারণ মানুষ হিসেবে কেমন সেবা পাই সেটা দেখতে চেয়েছিলাম, কারও কাছে হাত পাততে যাই নি! এরপরও তিনি অনেক প্রশ্ন করলে বলেছি আমি খাবার বিক্রি করায় ঢাবির কি মান সম্মান কমে গেছে? তিনি নাকি সব স্টুডেন্টের খোঁজ রাখেন, হাস্যকর সব কথা! বলেছি তাহলে গতবছর ১০জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করলে আপনি কোথায় ছিলেন?

যাই হোক আমার মানুষের কাছে হাত পাতার উদ্দেশ্য থাকলে সরাসরি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে খুঁজতাম। আমরা প্রত্যেকটা পেশাকে সম্মান আজও করতে শিখিনি। এত কাঠখোড় পুড়িয়েও তিনি আমাকে স্টল দেয়ার অনুমতি কিছুতেই দেননি। আমি বলেছি দয়া করে এক ঘণ্টার মধ্যে আমাকে অনুমতি যদি দিতেন, আজকেই শেষ। আমার খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! আমি অপেক্ষা করছি খাবার নিচে এনে। আপনি অনুমতি না দিলে খাবার ফেলে দিয়ে ৪দিন পর আজ ঘুমিয়ে পড়ব। তাও তিনি এখন পর্যন্ত একটা কল ও দেননি।

১৭ কেজি সামুদ্রিক বেলে (কেজি ৪২০) নষ্ট, ১৫০-২০০ ডিম গরমে গেইটের কাছে রেখে নষ্ট হয়েছে। আর ক্যান্টিনে আজ খাবার দিব না বলায় আপুরাও তেমন জানত না। আমি অনুমতির জন্য কাহিনী করতেই শেষ!

আমি কারও কাছে হাত না পেতে ক’দিনের বন্ধে টিএসসিতে খাবারের স্টল দিয়ে দুনিয়ার খারাপ কিছু করেছি হয়ত! না জানি কত হলের লবণ-ঝাল পরিমাপ ছাড় পোকা-মাকড়ের নির্যাসযুক্ত বার বিক্রি হয়নি দুদিন! এসব না খেলে ঢাবির শিক্ষার্থীরা মেধাবী হবে না বলে হয়ত অনুমতি পাইনি।’

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।