গণবিশ্ববিদ্যালয় অচল দুই সপ্তাহ, সেশনজটের আশংকা


Published: 2019-04-18 22:19:51 BdST, Updated: 2019-05-23 11:39:33 BdST

গবি লাইভ: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক অনুমোদিত ভিসি নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়। এ অবস্থায় সেশনজটের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়েছে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, গত মার্চের শেষ দিকে ইউজিসির তালিকায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ঘর ফাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের উপরে লাল চিহ্ন থাকার বিষয়টি নজরে আসে শিক্ষার্থীদের। তৎক্ষণাৎ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলে তারা ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো সমাধান না আসায় ৬ এপ্রিল থেকে আন্দোলনের ডাক দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এরপর ৬ এপ্রিল থেকে ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ করে টানা আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক সহ প্রশাসনিক ভবন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, অনশন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, ভিসির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে গত ১১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে বৈঠকও করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয় এবং আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্টেয় সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এদিকে চলমান সঙ্কটের মাঝে গত ৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ডা: লায়লা পারভীন বানুকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ভিসি পদে নিয়োগে সহায়তাদানের নির্দেশ সংক্রান্ত রায় দেয় হাইকোর্ট।

বৈধ ভিসি নিয়ে এ সমস্যায় সেশনজটের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ভেটেরিনারি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী জালাল উদ্দিন রনি বলেন, 'আমরা প্রায় ২ সপ্তাহ যাবত একটি নায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা আমাদের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে খুবই উদাসীন, যার কারণে আমরা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছি। এভাবে চলতে থাকলে মেধার প্রতিযোগিতামূলক এ যুগে আমরা পিছিয়ে পড়বো।'

নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, 'অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে এখানে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নিজের ছেলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মাঝে ফেলে দিয়েছি। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি অতিদ্রুত উপাচার্য সমস্যার সমাধান করে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে বাচান। দয়া করে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না।'

চলমান সমস্যা এবং এর থেকে উত্তোরণের বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ডা: লায়লা পারভীন বানুর সাথে। তিনি জানান, 'হাইকোর্ট গত ৩ এপ্রিল আমাকে ভিসি পদে নিয়োগের রায় দিয়েছে, যার কপি আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এ রায়ের বিরুদ্ধে যদি ৩০ দিনের মধ্যে রিট করা না হয় তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। তাছাড়া, রায়ের কার্যকারিতা ত্বরান্বিত করতে আলোচনার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে এ বিষয়ে কথা বলবে। সুতরাং শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নাই।

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।