সপ্তাহের ব্যবধানে জাবির দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু, দায় কার?


Published: 2019-04-15 11:51:39 BdST, Updated: 2019-08-20 18:36:33 BdST

জাবি লাইভ : এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওভারডোজ ইনজেকশনে প্রাণ গেছে ৪৬তম ব্যাচের ফারিহা নুসরাত জেরিন নামে ওই ছাত্রীর। চিকেন পক্সে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই ছাত্রীকে এলার্জির ওভারডোজ ইনজেকশন দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এতে তার ইন্টারনাল ব্লিডিং হয়ে তিনি মারা গেছেন গত ৯ এপ্রিল। এঘটনার এক সপ্তাহ না পেরোতেই গত ১৩ এপ্রিল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো এক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। তিনি মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাকে। মাত্র ২২ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন নুরুজ্জামান নিভৃত নামে ওই ছাত্র। তিনি ইংরেজি বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। হাসপাতালে নিতে নিতেই তিনি মারা গেছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন এমন মৃত্যুর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের মান যদি ভালো হতো তাহলে এমন অকাল মৃত্যু দেখতে হতো না। চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার মতো অবস্থাও নেই বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

গত শনিবার রাতে ইংরেজি বিভাগের নিভৃত অসুস্থ বোধ করেন। শিক্ষার্থীরা জানতেন না তার কি হয়েছে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর ভরসা নেই তাই নিভৃতকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালে নেয়ার আগেই ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

নূরুজ্জামান নিভৃতের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা রোববার চিকিৎসা কেন্দ্রের উন্নয়নে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টার ও শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন।

জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান নিভৃত। এসময় বন্ধুরা তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেয়ার পর ডাক্তাররা জানিয়েছেন হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে নুরুজ্জামানের। নুরুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র হলেও ক্যাম্পাস সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারি জেলায়।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। সহপাঠী ও বিভাগীয় শিক্ষকদের অভিযোগ নুসরাত ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন। জানা যায়, এলার্জির ইঞ্জেকশনের ওভারডোজের কারণে ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয় নুসরাতের। এতে তার ১০ দিনে ৮০ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন ছিল। সহপাঠীরা তার রক্তের জন্য ছুটাছুটি করেও কোন কাজ হয়নি। রক্ত যখন যোগাড় হয়েছে তখন তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ওই ছাত্রী চিকেন পক্সে আক্রান্ত ছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের খামখেয়ালিতে তার মৃত্যু হয়েছে। এলার্জি ইঞ্জেকশনের ওভারডোজ দেওয়ার পর ওই ছাত্রীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক জানান, চিকেন পক্সের রোগীকে এলার্জির ইনজেকশন দেয়া হয় অনেকসময়। চিকেন পক্সের রোগীর অবস্থা যদি খুব খারাপ হয় তাহলে তার এমনিতেই ইন্টারনাল ব্লিডিং হতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচানো কষ্টসাধ্য।

জানা যায়, ফারিহা নুসরাত জেরিনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। পরিবারের সঙ্গে তিনি ঢাকার সেন্ট্রাল রোডে থাকতেন। ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন তিনি। থাকতেন জাহানারা ইমাম হলে। তৃতীয় বর্ষে উঠার আগেই এই ছাত্রীর স্বপ্নগুলো চিরতরে থেমে গেছে।

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।