জাবিতে র‌্যাগিং : ছাত্রলীগের থাপ্পড়ে কানে কম শুনছেন জুনিয়র ছাত্র!


Published: 2019-03-25 16:53:23 BdST, Updated: 2019-07-21 15:29:30 BdST

জাবি লাইভ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে জুনিয়র এক ছাত্রের কান ফাটিয়ে দিয়েছেন সিনিয়র দুই ছাত্র। তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। ভিকটিম ওই ছাত্রের নাম মো. রাজন মিয়া। মীর মশাররফ হোসেন হলের গণরুমে তাকে র‌্যাগিংয়ের সময় দুই সিনিয়র ছাত্র থাপ্পড় মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন।

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে শনিবার সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৬ ব্যাচের ছাত্র মো. রাজন মিয়া প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দুই বছর আগে তাকে থাপ্পড় য়ো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই থাপ্পড়ের পর থেকে তিনি কানে কম শুনছেন বলেও জানিয়েছেন রাজন। এবিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।

রাজনের দেয়া অভিযোগপত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ‚গোল ও পরিবেশ বিভাগের রাকিব হাসান সুমন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সাকিব জামান অন্তুকে কান ফাটানোর জন্য দায়ি করা হয়েছে। তারা ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।

রাজনের ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মীর মশাররফ হোসেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথম বর্ষে সব শিক্ষাথীকে গণর“মে থাকতে হয়। সেখানের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ‘আদব কায়দা বা ক্যাম্পাসের নিয়ম কানুন’ শিখানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র‌্যাগিং) করে।

              সাকিব জামান অন্তু                                                                    রাকিব হাসান সুমন                                    

 

অভিযোগপত্রে রাজন উলে­খ করে, ২০১৭ সালের ৭ মে মীর মশাররফ হোসেন হলের গণরুমে র‌্যাগিং চলছিল। এসময় রাকিব হাসান আমাকে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় মারে। তখন আমি তাকে থাপ্পড় না দেয়ার জন্য অনুনয় করি। এরপর পাশে থাকা সাকিব জামান এসে আমাকে আরো কয়েকটি থাপ্পড় দেয়। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে পড়ি। পরে আমাকে মেডিকেলে নেয়ার সময় আরেকজন আবারো আমাকে থাপ্পড় দিয়েছিলো।

এ ঘটনার পর রাজনের বন্ধুরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। এনাম মেডিকেলের চিকিৎসক রাজনের বাম কানের পর্দা ফাটার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাজন বলেন, এখনো আমার কানে সমস্যা রয়েছে। অনেক চিকিৎসার পরেও কান স্বাভাবিক হয়নি। এখনো চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ২য় বর্ষের কারও ব্যক্তিগত কাজের দায়ভার সংগঠন নেবে না। তবে প্রশাসন যি বিচার করে আমরা তা মেনে নেব।

 

ঢাকা, ২৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।