জাবি ছাত্রীর প্রেগনেন্সির বিষয়টি জানতেন না বান্ধবীরাও!


Published: 2019-03-18 12:48:44 BdST, Updated: 2019-07-21 02:37:41 BdST

জাবি লাইভ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী হলে হঠাৎ নবজাতকের জন্ম হলেও সেই ছাত্রীর প্রেগনেন্সির বিষয়টি জানতেন না কেউ। এমনকি ওই ছাত্রীর রুমমেট ও পাশের রুমমেটরাও বিষয়টি টের পায়নি। ওই ছাত্রী নিয়মিত ক্লাসও করতেন। হলে সন্তান জন্ম দেয়ার দুইদিন আগেও ওই ছাত্রী ক্লাস করেছেন বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন। ওই ছাত্রী চাদর মুড়িয়ে ক্লাসে যেতেন বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট জানিয়েছেন সবসময় চাঁদর মুড়ি দিয়ে থাকায় মেয়েটি সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর আমাদের নজরে আসেনি।

জাবি ছাত্রী হলে সন্তান প্রসবের পর থেকে এনিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই ছাত্রীর পাশের রুমমেটসহ বেশ কয়েকজন এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। যেখানে তারা জানিয়েছেন এমন একটি ঘটনা তারা ঘুনাক্ষরেও জানতেন না।

ওই ছাত্রীর এক সহপাঠী জানান, নিয়মিত ক্লাস করতো ও। তার মধ্যে কোন শারীরিক পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করিনি। চাদর মুড়ি দিয়ে ক্লাসে আসতো ওই ছাত্রী।

আরেক সহপাঠী বলেন, প্রচণ্ড ধৈর্যশীল একটা মেয়ে ও। হলে একা একা সে সন্তান জন্ম দিয়েছে। জন্মের পর সে ব্যাথায় ব্যাথায় কাতর হয়ে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে সে বিষয়টি রুমমেটকে জানিয়েছে।’ওই ছাত্রী অনেক ধৈর্যশীল। হলে একা একা সে সন্তান জন্ম দিয়েছে। আমরা কেউ বিষয়টি জানতাম না।

জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে জাবিতে ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের একটি কক্ষে সন্তান জন্ম দেন এক ছাত্রী। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী নবজাতক প্রসব করে কাউকে না জানিয়ে ট্রাংকে লুকিয়ে রাখে। তার রুমমেট রুমে আসলে তাকে শুধু প্রসববেদনার কথা জানায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে জানায়। চিকিৎসাকেন্দ্রের নার্স এসে তাকে হাসপাতলে নেয়ার পরামর্শ দিলে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে ওই কক্ষ থেকে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙ্গে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন। এ সময় বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শরীর নীল বর্ণ ধারণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে বাচ্চাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই (মায়ের কাছে) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত পৌনে দশটার দিকে ওই শিশুটি মারা যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ জানান, বাচ্চাকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর সম্পূর্ণ নীল রং ধারণ করেছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক করে মায়ের কাছে পাঠানো হয়। যদিও পরে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে হলের কক্ষে গোপনে সন্তান জন্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন রনি মোল্লা। তিনি ক্যাম্পাসেও আসছেন না। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের কথা স্বীকার করে সন্তানের পিতৃত্বের কথা জানিয়েছেন রনি মোল্লা। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন রনি মোল্লা।

জাবি ছাত্রী হলের ওই ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা, ১৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।