জাবি ছাত্রের বয়ান : ‘আমরা বিবাহিত, ওই সন্তানের বাবা আমি’


Published: 2019-03-18 01:26:44 BdST, Updated: 2019-07-21 15:25:19 BdST

জাবি লাইভ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রীহলের একটি কক্ষে জন্ম নেয়া সন্তানের পিতৃপরিচয় দাবি করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তবে জন্মের পর ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। ওই নবজাতককে ট্রাংকে বন্দি রেখে পেটের ব্যাথায় কাতর ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরে ওই নবজাতককে ট্রাংক থেকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

এদিকে জাবি ছাত্রী হলে জন্ম নেয়া ওই নবজাতকের বাবা পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রনি মোল্লা ফেইসবুকের একটি গ্রুপে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন ‘আমার সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ওই সন্তানের বাবা আমি। অামরা বিবাহিত, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটেছে। এ নিয়ে কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না।’

শুধুই জাহাঙ্গীরনগর নামে একটি গ্রুপে রনি মোল্লা স্ট্যাটাস দেন আমরা দুইজনই বিবাহিত। যদিও তোপের মুখে পরে তিনি স্ট্যাটাসটি সরিয়ে নিয়েছেন।

জানা গেছে, সন্তান জন্ম দেয়া জাবি ছাত্রীর বাড়ি পাবনায়। রনি মোল্লার বাড়িও পাবনায়। দুজনের বাড়ি একই জেলাতে হওয়ার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। এমনকি দুজনেই হলে থাকতেন বিধায় তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে।


একপর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। তারপরই ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তবুও অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রনির সঙ্গে ওই ছাত্রীর বেশ কয়েকবার বাগবিতণ্ডা হয়। একারণে তাদের সম্পর্কের অবনতিও হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলে গোপনে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জাবির উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ছাত্রী। এসময় তিনি ভয়ে সন্তানকে ট্রাংকে তালাবদ্ধ করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রুমমেটকে অনুরোধ করেন। পরে বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হলে ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কান্নার শব্দ শুনে ট্রাংক থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় বাচ্চাটিকে।

হল সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী নবজাতক প্রসব করে কাউকে না জানিয়ে ট্রাংকে লুকিয়ে রাখে। তার রুমমেট রুমে আসলে তাকে শুধু প্রসববেদনার কথা জানায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে জানায়। চিকিৎসাকেন্দ্রের নার্স এসে তাকে হাসপাতলে নেয়ার পরামর্শ দিলে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে ওই কক্ষ থেকে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙ্গে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন। এ সময় বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শরীর নীল বর্ণ ধারণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে বাচ্চাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই (মায়ের কাছে) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত পৌনে দশটার দিকে ওই শিশুটি মারা যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ জানান, বাচ্চাকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর সম্পূর্ণ নীল রং ধারণ করেছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক করে মায়ের কাছে পাঠানো হয়। যদিও পরে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে হলের কক্ষে গোপনে সন্তান জন্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন রনি মোল্লা। তিনি ক্যাম্পাসেও আসছেন না। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের কথা স্বীকার করে সন্তানের পিতৃত্বের কথা জানিয়েছেন রনি মোল্লা। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন রনি মোল্লা।

জাবি ছাত্রী হলের ওই ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা, ১৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।