স্কুলে যে কারণে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন!


Published: 2019-02-12 16:56:33 BdST, Updated: 2019-02-22 07:07:59 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ এবার সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের তরিকা ধরলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষকদের হালচাল ও তাদের কর্মকান্ড সরেজমিনে ধরতে তিনি মাঠে নেমেছেন। তাদের বূল ধরা তো গেলই না বরং নানান সমস্যার কথা শুনে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করলেন। রাজধানীতে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঝটিকা পরিদর্শন করেন তিনি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে কি-না তা দেখতে প্রতিমন্ত্রীর এ ঝটিকা পরিদর্শন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে দুপুর ১২টায় মিরপুর বেড়িবাঁধ এ ব্লক এলাকার ‘বাউনিয়া বাঁধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান।

দুটি স্কুলেরই ভবন জরাজীর্ণ। আধাপাকা ভবনের ওপরে টিনের চাল ভাঙাচোরা। শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ সংকট। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর কাছে ভবন সংস্কারের দাবি জানান শিক্ষকরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'যা দেখলাম তা খুবই হতাশাজনক। তবে দ্রুত ভবন নির্মাণের ব্যবস্থার আশ্বাস দেন তিনি। দ্রুত সবকিছু করার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।


জানাগছে প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, লেখাপড়ার মান, স্কুলের পরিবেশ দেখেন। শিশুদের খেলাধুলার সামগ্রীসহ সব কিছু ঠিকঠাক আছে কি-না খোঁজ নেন তিনি। বলেন সব কিছুই এখন ঠিকঠাক ভাবে চালাতে হবে।

এর পর প্রতিমন্ত্রী দুপুর দেড়টায় একই এলাকার শহীদবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান প্রতিমন্ত্রী। এ স্কুলের শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি থাকলেও প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ছিল অনুপস্থিত। এছাড়া একজন শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর প্রমাণ পাওয়া যায়।

নানান সমস্যা আর উপস্থিতি প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, বিদ্যালয়ে অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান পড়ালেখা করে। তাদের অনেকে বিভিন্ন কাজে যুক্ত। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েও পরে চলে যায়। তবে স্কুলে মিড ডে মিল চালু থাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আরও জানান, একজন শিক্ষিকা মাতৃকালীন ছুটিতে থাকায় তার ক্লাসগুলো যাতে মিস না হয় তাই বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে। তাকে মাসিক এক হাজার টাকায় অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে এটি অনৈতিক মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে শিক্ষিকা ছুটিতে তার ক্লাসগুলো আপনাদের করানো কথা, সেখানে অনিয়ম করে বাহিরাগত একজনকে দিয়ে ক্লাস করাতে পারেন না। প্রসঙ্গত গত ৩০ জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ক্লাস কার্যক্রমের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল পৌনে ৩টা ও মফস্বলে ৯টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গ্রীষ্মকালীন সময়ে সারাদেশে সকাল ৭টা থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত ক্লাস করানো নির্দেশনা দেয়া হয়।

এখন দেখার বিষয় শিক্ষকরা সরকারী গাইড লাইন কতটুকু পালন করে।

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।