'অভিযোগ পাচ্ছি, ১০ লাখেও ভর্তি হয়েছে ভিকারুননিসায়'


Published: 2018-12-05 17:09:19 BdST, Updated: 2018-12-11 02:26:21 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়মের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এই প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সংখ্যক সিট থাকলেও টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে ১০ লাখ টাকাও নেয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা শাখা খোলার অনুমোদন দেই না অথচ তারা শাখা খুলে ফেলে। এই তথ্যগুলো কেউ বলে না। মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা অনেক তথ্য পাই কিন্তু কোন গার্ডিয়ান বা শিক্ষার্থী অভিযোগ করতে চান না, তারা ভয় পান। ফলে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি।

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আমি অসংখ্য টেলিফোন পাচ্ছি, তারা (অভিভাবক) তাদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন। আমি বলেছি, এ বিষয়গুলো আগে বলেননি কেন? অনেক ক্ষমতাবান ব্যক্তি অথচ তারা আগে বলেননি। তারা বলেছে, আমরা সাহস পাইনি, কারণ আমরা বললে আমাদের মেয়েকে শাসাতে পারে, সেই কারণে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত, ব্যথিত এবং খুবই কষ্ট পেয়েছি। ঘটনার দিন আমরা দুপুরে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা কমিটি গঠন করে তদন্ত করবো। ফলে ঘটনার দিন সন্ধার পরই আমরা কমিটি গঠন করেছি।

মন্ত্রী বলেন, কমিটিকে তিনদিন সময় দিয়েছিলাম যাতে বিষয়টি দ্রুত বিস্তারিত জানতে পারি। কমিটি গঠনের পর থেকে কাজ করে আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন পেয়েছি। এই প্রতিবেদনে দোষি ব্যাক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানে যেসকল অনিয়ম এবং অসঙ্গতিগুলো উঠে এসেছে। সেখানে অভিভাবকরা নানা ধরণের অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা ওই ঘটনার জন্য শুধুমাত্র তিনজন দায়ি ব্যাক্তিকে চিহ্নিত করেছি তা নয়, বরং আমরা সেই সঙ্গে অনেকগুলো অনিয়ম এবং অসঙ্গতি চিহ্নিত করছি। যে বিষয়গুলো অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পেয়েছি। ওখানে বহুদিন ধরে প্রিন্সিপাল নেই, একজন ভারপ্রাপ্তকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও তারা নিয়ম না মেনে প্রিন্সিপাল নিয়োগের ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এটাও একটি বড় ধরণের অনিয়ম।

জানা গেছে, সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী’ হিসেবে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রির বাবা। মামলার আসামিরা হলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা।

অরিত্রির আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তারা বাবা দিলীপ অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, অরিত্রির স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গত রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি দেয়ার) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এ অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এদিকে অরিত্রির এভাবে অপমৃত্যু নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার থেকে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে। বুধবারও তারা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেয়।

 

 

 

ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।