ভুট্টার হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করল শেকৃবি


Published: 2018-08-09 15:32:08 BdST, Updated: 2018-10-24 11:48:04 BdST

শেকৃবি লাইভ: সম্প্রতি দুইটি নতুন হাইব্রিড ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-১ ও সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-২ নামের উদ্ভাবিত ভুট্টার এ জাত দুটি সমগ্র দেশেই প্রায় সব মৌসুমেই চাষাবাদ উপযোগী।

জাতীয় বীজ বোর্ড (এনএসবি) অনিয়ন্ত্রিত ফসলের জাত নিবন্ধনের আওতায় শেকৃবি উদ্ভাবিত এ জাত দুটির নিবন্ধন দিয়েছে। সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-১ (SAU-444) ও সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-২ (SAU-339) নামে ভুট্টার নতুন এ জাত দুটি নিবন্ধিত হয়।

রাজধানীর শেকৃবি কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহেল বাকী ভুট্টার এ জাত দুটি উদ্ভাবন করেন। প্রায় পাঁচ বছরের গবেষণায় ৭০-৮০ বার ক্রসের মাধ্যমে এ জাত দুটি উদ্ভাবন করেন বলে জানান তিনি।

ক্যাম্পাসলাইভের সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন, নীল সাগর সীড কোম্পানির গবেষণা বিভাগের অন্যান্যদের সহযোগীতায় উদ্ভাবিত এ জাত দুটি সমগ্র বাংলাদেশে রবি ও খরিপ- ১ মৌসুমে চাষ করা যাবে।

এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে চাষকৃত অন্যান্য ভুট্টার চেয়ে এ জাত দুটি তুলনামূলক খাটো প্রজাতির ও মোচাগুলো গাছের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করে। এতে করে খাটো প্রজাতির এ জাতের ভূট্টা সহজেই মাটি থেকে পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করতে পারে। জাত দুটি খাটো প্রজাতির হওয়াতে ঝড় কিংবা প্রবল বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

বগুড়া জেলার শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামে, চুয়াডাংগার জীবননগর উপজেলার উথলি ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠীহাজরডাংগা ইউনিয়নের বাগদহ গ্রামে সাউ-১ ও সাউ-২ হাইব্রিড ভুট্টা দুটির পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়।

ভুট্টার হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন

 

রবি মৌসুমে ভূট্টা দুটির ফলন হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৩.৫ - ১৪.০ মেট্রিকটন ও খরিপ-১ মৌসুমে ৮.৫ - ৯.০ মেট্রিকটন। দোআশ, এটেল দোআশ মাটিতে উদ্ভাবিত এ জাতের ভুট্টা দুটি ভাল জন্মে। এ জাতের ভূট্টা চাষে হেক্টর প্রতি ১৫-২০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। জলাবদ্ধতা এ জাতের ভূট্টা দুটির প্রধান অন্তরায়।

উদ্ভাবিত ভুট্টার এ জাত দুটির গাঠনিক বিবরণ দিতে গিয়ে প্রফেসর বাকী বলেন, সাউ -১ ও সাউ-২ হাইব্রিড ভুট্টা দুটির ট্যাসেল ( ভুট্টার বহি: আবরণ) যথাক্রমে কম্প্যাক্ট-সেমি কম্প্যাক্ট এবং খাড়া ও ছড়ানো প্রকৃতির। ভুট্টা দুটির ট্যাসেলের এরুপ গঠনের কারণে বৃষ্টির পানি ভুট্টার গায়ে জমে থাকতে পারেনা, ফলে ভুট্টা বীজের পঁচে যাওয়া, বিবর্ণ হওয়া ও ট্যাসেল অভ্যন্তরে ভুট্টার বিভিন্ন পোকার আক্রমণ থেকে অনেকাংশেই রেহাই পাবে এ জাতের ভূট্টা।

ভুট্টার রেকিস ( লম্বা দন্ড যার উপর ভূট্টা বিন্যস্ত থাকে) তুলনা মূলক চিকন ও লম্বা, কমলা-হলুদ রংয়ের ভুট্টার বীজগুলো ডেন্টেট কিংবা সেমি ডেন্টেট ( গোড়া চোকা)-যার কারণে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে রেকিসে ভুট্টা সজ্জিত থাকতে পারে।

জাত দুটির বিশুদ্ধতা (পিউরিটি) নিয়ে প্রশ্ন করলে গবেষক জানান, "সাধারণত দেশে যে জাতের ভুট্টা কৃষক পর্যায়ে আবাদ করা হয় সে জাতগুলো অনেকাংশেই ডাবল ক্লোজটাইপ। কিন্তু এ জাত দুটি সিঙ্গেল ক্রস ও থ্রি-ওয়ে ক্রসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উদ্ভাবিত, ফলে জাত দুটির বিশুদ্ধতা শতভাগ। ডাবল ক্লোজ টাইপের ভুট্টা চাষের ক্ষেত্রে ফসল ক্ষেতে অনিয়ন্ত্রিত পরাগায়নের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, কিন্তু উদ্ভাবিত এ জাত দুটি তা থেকে অনেকাংশেই ব্যতিক্রম।"

সদ্য উদ্ভাবিত এ জাত দুটি নিয়ে গবেষকের পরিকল্পনা জানতে চাইলে ক্যাম্পাসলাইভকে তিনি বলেন, " বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গনের (আউটরেস) সম্প্রসারণ মূলক কাজের মাধ্যমে জাত দুটি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তাছাড়াও, অন্যান্য বীজ কোম্পানির সাথে চুক্তি করেও দেশের সর্বত্র উদ্ভাবিত জাত দুটির সম্প্রসারণ করা হতে পারে। ভুট্টার এ জাত দুটি নিয়ে এর ক্রমশ মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি'র শিক্ষার্থীরা গবেষণা করবে, গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল পর্যালোচনা করে কৃষক পর্যায়ে বীজ সরবরাহ করা হবে।"

পোল্ট্রি ও ফিস ফিডের জন্য বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৬ মিলিয়ন মে.টন ভূট্টা আমদানি করে থাকে। যেহেতু এ জাতের ভূট্টা দুটি প্রায় পুরো বছরেই এ দেশে চাষাবাদ করা সম্ভব, তাই চাহিদার অনেক ভাগই এ উৎস থেকে পূরণ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট গবেষক অধ্যাপক বাকী বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাধর্মী কাজে ফান্ড একটি বড় সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউ রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস) থেকে পর্যাপ্ত অনুদান (ফান্ড) পেলে আমাদের গবেষণা আরও সমৃদ্ধ হবে।"

 


ঢাকা, ০৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।