কোটা : মারতে মারতে আরেক নেতাকে তুলে নিয়ে গেল ছাত্রলীগ!


Published: 2018-07-23 03:03:04 BdST, Updated: 2018-08-18 09:14:36 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শেষে ফেরার পথে আন্দোলনকারীদের এক শীর্ষ নেতাকে মারতে মারতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ ওই নেতা। তাকে পুলিশের হাতে দেয়া হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে থানায় যোগাযোগ করেও তার কোন হদিস মেলেনি। ওই নেতার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যাচ্ছে না। এর আগেও একই কায়দায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোটা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ফারুকসহ বেশ কয়েকজনকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের পুলিশ মামলায় গ্রেফতার দেখায়। 

জানা গেছে, রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে ফেরার পথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা-মামলা এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক নিপীড়নের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ফেরার পথে তারা হামলার শিকার হন। এসময় কোটা আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পেটানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মসূচি শেষ করে আন্দোলনকারীরা টিএসসির পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল হকের নেতৃত্বে জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমনসহ বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। এসময় ঘটনাস্থলে অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা ও ২০ জনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাকেও দেখা যায়।

আন্দোলনকারীরা জানান, সমাবেশ শেষে কোট সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক সোহরাব হোসেন, রাতুল সরকার ও নিয়াজী একটি সিএনজি অটোরিকশা করে চলে যান। আরেকটি ট্যাক্সি ক্যাবে করে যান আতাউল্লাহ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেল নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি ক্যাবের পিছু নেয়। একপর্যায়ে রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় সিএনজি থামিয়ে সোহরাব, রাতুল ও নিয়াজীকে মারধর করেন তারা। অন্য দুইজন পালিয়ে গেলেও সোহরাবকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান উজ্জ্বল, জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজাসহ আট দশজনকে সেখানে দেখা যায়।

মারধরের সময় সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এসে সোহরাবকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। তবে নিউমার্কেট থানায় গিয়ে খোঁজ নিলে সোহরাবকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইদুর রমান উজ্জ্বল বলেন, কোটা আন্দোলন হয়েছে ক্যাম্পাসে। আমি বাইক নিয়ে বাটা সিগন্যালের দিকে গেলে এক সিনজি চালকের সাথে ঝামেলা হয়। কিন্তু সিনজিতে থাকা তিনজনের সাথে কোন কথা হয়নি।

এর আগে সমাবেশে বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, কোটা সংষ্কার আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। অথচ এই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করে একটি কুচক্রী মহল প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেও আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। হামলা চালিয়ে আবার আমাদেরকেই আটক করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। তবে যতদিন পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততদিন এই আন্দোলন ও কর্মসূচি চলবে।

 

ছবিতে আন্দোলনকারীদের একজনকে মারধর করছে ছাত্রলীগ

ঢাকা, ২৩ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।