ভিসির যৌন কেলেঙ্কারি, চাকরির আশ্বাসে অভিযোগ প্রত্যাহার! 


Published: 2018-04-24 20:35:54 BdST, Updated: 2018-05-24 08:23:45 BdST
গোপালগঞ্জ লাইভ : চাকরির আশ্বাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন সেই তরুণী। এবার তিনি সুর পাল্টে ভিসিকে ভালো মানুষ বলে অভিহিত করেছেন।
 
এ অবস্থায় ভিসির যৌন কেলেঙ্কারির বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টাররোলে কর্মরত ওই তরুণী। 
 
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চাকরি দেয়ার কথা বলে চাকরি দেননি। এজন্য ক্ষুদ্ধ হয়ে স্যারের বিরুদ্ধে এসব কথা বলেছি। আসলে স্যার খুব ভাল মানুষ। আমাকে চাকরি দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’ 
 
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ আমাকে আর্থিক অনুদান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে ভিসি স্যারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অপবাদ দিতে বলে, আর অপবাদ না দিলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়।
 
আমি এতিম মেয়ে, আমার অভাবের সংসার, তাই আমি তাদের প্রলোভনে পড়ে সাংবাদিকদের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছি, যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে। এখন আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। ভিসি স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভুল করেছি। এজন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।
 
এদিকে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগের পর সুর পাল্টে ফেলায় এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ একটি মহলের চাপে ওই তরুণী তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তাকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিসির যৌন কেলেংকারির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ সারা দেশ জুড়ে ওঠে আলোচনার ঝড়।
 
গোপালগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে নবীন আইনজীবী হাবিবুর রহমান মুকুল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে আদলতের শরনাপন্ন হবেন বলে জানিয়েছেন। 
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আশিকুজ্জামান ভুইয়া সাংবাদিকদের বলেন, একজন সম্মানিত ব্যাক্তির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
 
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কবি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রাণভয়ে ভীত ওই নারীর নিরাপত্তা প্রয়োজন। এ ব্যপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
 
নারী কেলেংকারির বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ডঃ খোন্দকার নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, মেয়েটিকে তিনি মেয়ের মতো দেখেন। সে অসহায় একটি মেয়ে। তাকে এবং তার স্বামীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেবার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু, নানা কারণে এবারের ধাপে তিনি তাদের চাকরি দিতে পারেননি। আর এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে অন্যের প্ররোচনায় পড়ে তারা আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।
 
উল্লেখ্য, রোববার এমএলএসএস হিসেবে মাস্টার রোলভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ওই তরুণী শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে আর্তনাদ করে ভিসি ভবনের সামনে সন্তানের স্বীকৃতি চান। এনিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। ভিসি ভবনের সামনে ওই তরুণীর কান্নার বিষয়টি কয়েকজন ভিডিও করেছেন। ২১ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণী তার এক বছর বয়সী কন্যা সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছেন। ওই তরুণী ভিসিকে তার সন্তানের বাবা দাবি করে চিৎকার দিয়ে বলেন, আমার সন্তানের বাবা ভিসি। এই সন্তানের সঙ্গে ভিসির চেহারার অনেক মিল আছে।
 
ওই তরুণীর আর্তনাদের ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডঃ খোন্দকার নাসিরউদ্দিন চাকরি দেয়ার কথা বলে তাকে বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতন করেন। সেইসঙ্গে ভালোবাসার ছলনার প্রলুব্ধ করে দিনের পর দিন ভিসির বাংলোয় রেখে ওই তরুণীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করেন ভিসি।
 
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নির্যাতিত ওই তরুণী বলেন, ‘আজ আমি সবকিছু ফাঁস করে দেব। খুলে দেব মানুষ নামের নরপশুর মুখোশ। আমার সন্তানের বাবা তুমি। আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছো। আমার কাছে তোমার সব অপকর্মের প্রমাণ আছে। সবার সামনে তোমার মুখোশ খুলে দেব।’
 
 

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।