ঢাবির সুফিয়া কামাল হলে এসব কি হচ্ছে! (ভিডিও)


Published: 2018-04-20 20:47:37 BdST, Updated: 2018-08-18 20:38:33 BdST

ঢাবি লাইভ: যন্ত্রনায় ছটপট করছে অনেকেই। নানান কৌশলে কোন রকমে হলে অবস্থান করছে। আর ভাবছে না জানি কখন তার ব্যাপারে অভিযোগ যায় এশার টেবিলে। এই ভয়ে অনেক নির্ঘম রজনী শেষে গত সারাদিন ছিল বিভোর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলকে ঘিরে এমন অনেক অভিযোগ আসছে হর হামেশায়। অনেকেই হলও ছেড়েছেন বাধ্য হয়ে। কেউ কেউ নিরবে হল ছেড়ে নিজ নিজ ঘরে বা আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগ আছে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে বের করে দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্রীদের এ হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

গতকাল সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়া হয়। হল ত্যাগের সময় তাদের এবং অভিভাবকদের কারও সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়া হয়া হয়। হল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ফোন কেড়ে নিয়ে ফেইসবুকে কে কোন পোস্ট দিয়েছে তা পরীক্ষা করাও হয়েছে।

ছাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদে সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করেছে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলন করা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এখনও মাঠে সক্রিয়।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ

 

উল্লেখ্য গত ১০ই এপ্রিল রাতে ছাত্রলীগের হল সভাপতি এশার হাতে কয়েক শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হন। পরে শিক্ষার্থীরাও তাকে লাঞ্চিত করে। এ ঘটনায় প্রথমে এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার হয়।

অন্যদিকে, এশাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ২৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২৬ ছাত্রীকে শোকজ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । আর এ ঘটনার জেরেই সর্বশেষ ২০ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটলো। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও একটি সূত্রে জানাগেছে।

কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের নানা হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। এর মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষার্থীর স্থানীয় অভিভাবকদের ডাকা হয় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ব্যাগ নিয়ে হল থেকে বের হতে দেখা যায়।

আবদুল আউয়াল নামে এক অভিভাবক রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, আমি আমার বোনকে ফোন দিয়েছিলাম। সে না ধরে তার এক শিক্ষক ধরেন। তিনি আমাকে আসতে বলেন। রাত ১২টার দিকে গণিত তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিনকে নিয়ে তার স্থানীয় অভিভাবক হল থেকে বেরিয়ে আসেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা কোনো কথা বলতে চাননি। শারমিনের অভিভাবক বলেন, তাদের কোনো কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।

একজন ছাত্রী বলেন, আমাদের ফোন চেক করে দেখছিল আমরা ফেইসবুকে উল্টোপাল্টা কোনো স্ট্যাটাস দিয়েছি কি না। কোটা সংস্কার আন্দোলনে কারা কারা ছিল সেটা জিজ্ঞাসা করছিল। আমরা বলেছি সবাই তো ছিল, এক হাজার মেয়ে ছিল। তখন বলল, লিখিত দাও, সবাইকে বের করে দেব।

 

রাতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর কয়েকজন নেতাও সেখানে আসেন। রাত আড়াইটার দিকে হলের গেইট থেকে চলে যাওয়ার সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর সাংবাদিকদের বলেন, রাতের অন্ধকারে কেন অভিভাবক ডেকে ছাত্রীদের হল থেকে বের করা হচ্ছে?

এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকাল ৪টায় সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়ে সুফিয়া কামাল হল এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। আজকেও এমন ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

যা ঘটেছিল:

জানাগেছে কমপক্ষে ২০ জন অভিভাবক হল থেকে নিয়ে গেছেন তাদের সন্তানকে। এ সময় তাদের সংবাদকর্মীসহ বাইরের কারও সঙ্গে কথা না বলতে নিষেধ করে দেয়া হয়। ফলে অভিভাবকরা এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।

জানা গেছে, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রিমির বাবা রাত সাড়ে ৮টায় ফোন পেয়েছেন হল কর্তৃপক্ষের। ঝড়-বৃষ্টির কথা বলে তিনি রক্ষা পাননি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রাতেই মেয়েকে নিয়ে যেতে হবে। ফলে সাভারের ধামরাই থেকে রওনা হয়ে রাত পৌনে ১টায় হল গেটে পৌঁছান।

এখানে ভিডিও…

 

রিমির বাবা ফারুক হোসেন জানান, সুফিয়া কামাল হলে মারামারির সময় রিমি সাভারে ছিল। কারণ ওই দিন তার নানা মারা যান। মাত্র দু’দিন আগে সে হলে এসেও আজ রক্ষা পায়নি। হল ত্যাগ করতে হয়েছে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলের এক ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড়ভাই আবদুল আউয়াল তার বোনের নাম ও পরিচয় গণমাধ্যমকে দিলেও তা প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।


তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করা ওই ব্যক্তি জানান, তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বোনকে ফোন দেন। এ সময় ফোনটি রিসিভ করেন এক শিক্ষিকা। ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘হলে সমস্যা হয়েছে। আপনার বোনকে হল থেকে নিয়ে যান, তার ফোন জব্দ করা হয়েছে।’


আবদুল আউয়াল জানান, তিনি ওই শিক্ষিকাকে অনুরোধ করেন তার বোনকে ফোনটি দেয়ার জন্য। পরে বোন ফোন রিসিভ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলেন। এ সময় সে তাকে বাসায় নিয়ে যেতে অনুরোধ করে ফোনটি কেটে দেন। এরপর থেকে আর তার বোন ফোন রিসিভ করছে না।

 

তিনি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বোন যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার বিচার হতেই পারে কিংবা আমাদের কাছেও অভিযোগ জানাতে পারে। কিন্তু সে ফোন রিসিভ করছে না কেন? আমি আমার বোনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’


এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীসহ কয়েকজনকে হল থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অন্তি নামের এক ছাত্রীকে হাউস টিউটরদের কক্ষে আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে রাত ১০টার দিকে তার ব্যবহৃত টেলিটক নম্বরে ফোন দেয়া হলে অন্য একজন কল রিসিভ করে বলেন, এখন অন্তিকে দেয়া যাবে না। পরে ফোন করেন।’


এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান  বলেন, ‘ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ সত্য নয়। এগুলো গুজব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একটি দুষ্টচক্র গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছে। হয়রানির মতো কিছু হচ্ছে না।’

গভীর রাতে হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার সময় সংবাদকর্মীসহ বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, বিভিন্ন বিভাগের মেয়েরা এ সময় হলের মাঠে জড়ো হন। কর্তৃপক্ষতাদের নাম-ঠিকানা জোগার করে মাঠ ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়।

 

ঢাকা, ২০ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিসিএস

 

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।