নাসির হত্যাকান্ড: তদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলন


Published: 2021-02-25 01:38:34 BdST, Updated: 2021-04-12 03:13:09 BdST

বরগুনা লাইভঃ হত্যার নয়মাস পর মুঠোফোনের কল রেকর্ডসের সূত্র ধরে উদঘাটিত বরগুনার নাসির হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিশেবে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ কবর খুড়ে উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার বেলা এগারটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বরইতলা এলাকায় নিহত নাসিরের বাড়িতে দাফন করা কবর থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার তদন্তের সার্থে বরগুনার চীফ জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মরদেহ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশের আলোকে বুধবার নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট তানভীর আহমেদ, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জয়রাজ হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বরজিত কুমারের উপস্থিতিতে কবর খুড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। মরদেহের অবশিষ্টাংশ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়না তদন্ত শেষে ফরেনসিক পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য মহাখালী ল্যাবে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

বুধবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে বরগুনার ঢলুয়া ইউনিয়নের বরইতলা এলাকায় নাসিরের বাড়ির কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এসময় নাসিরের স্বজন, এলাকাবাসী ও উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

বরগুনা সদর থানার ওসি তদন্ত শহীদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের ২৩ মে রাতে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের গুলবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির হাওলাদার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুর কারণ হিশেবে উল্লেখ করা হয়েছিল স্ট্রোক। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করেন নাসিরের স্বজনরা। এ ঘটনার নয় মাস গত ১০ ফেব্রুয়ারী একটি মোবাইল ফোনে নাসিরকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার কথোপকথনে রেকর্ড ফাঁস হয়। ওই রেকর্ড পুলিশের কাছে পৌঁছানোর পর বুধবার রাতেই নাসিরের ভাই আবদুল জলিল বরগুনা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এরপর পুলিশ নাসিরের স্ত্রী ফাতেমা মিতু (২৪) এবং মিতুর পরকিয়া প্রেমিক রাজু মিয়াকে (২০) আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী মিতু ও তার সহযোগী রাজু নাসিরকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

নিহত নাসির বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া এলাকার গয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গোলবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

গ্রেফতার ফাতেমা মিতু বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা এলাকার মোঃ মাহতাব মৃধার মেয়ে। তিনি বরগুনার থানাপাড়া এলাকায় বাবার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রাজু মিয়া ঢলুয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া এলাকার বারেক মিয়ার ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপরাশেন) স্বরজিত কুমার জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনায় দায়ের মামালার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১২ ফেব্রæয়ারী বরগুনা চীফ জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট আদালতের কাছে নিহতের মরদেহের ময়না তদন্তের আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রয়ারী আদালতের বিচারক ইয়াসিন আরাফাত মরদেহ কবর থেকে উত্তোন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। এ কাজে একজন নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন আদালত।

মরদেহ উত্তোলনের পর প্রাথমিকভাবে মাথায় খুলিতে কালো দাগ নাকের সামনের অংশ ভাঙা সনাক্ত হয়েছে বলেও এই তদন্ত কর্মকর্তা জানান। তিনি জানান, নিহতের মরদেহের অংশ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ময়না তদন্ত শেষে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য মহাখালী ল্যাবে পাঠানো হবে। শিঘ্রই তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা স্বরজিত কুমার।

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।