এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ধর্ষিতার করুণ বর্ননায় সেই ভয়াল রাত


Published: 2020-09-28 03:46:29 BdST, Updated: 2020-10-29 11:13:47 BdST

সিলেট লাইভ: সেই গৃহ বধু ধর্ষণের বর্ননা দিতে গিয়ে বার বার কেঁদেছেন। বলেছেন আমি কিভাবে সমাজে মুখ দেখাবো। আমার আর কিছু নেই। সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে সেই নরপশুরা। সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনার শিকার সেই নববধূ। রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে তিনি জবাববন্দি দেন

সিলেট মহানগর আদালতের সহকারী কমিশনার প্রসিকিউশন অমূল্য কুমার জানান, দুপুরে পুলিশ ওই গ্রহবধুকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে আদালতে নিয়ে আসেন।

দুপুর দেড়টার দিকে তিনি আদালতে ওই রাতের ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত ২২ ধারায় তার জবানববন্দি লিপিবদ্ধ করে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ধর্ষিত তরুণী তার স্বামীকে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজে ঘুরতে আসেন। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তরুণীর স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য এমসি কলেজের গেটের বাইরে বের হন।

এসময় কয়েকজন যুবক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চায়। এতে তরুণীর স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর শুরু করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এক পর্যায়ে গ্রহবধু ও তার স্বামীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমসি কলেজের হোস্টেলে নিয়ে যান এবং ওই নারীকে গণধর্ষণ করে।

এসময় তাদের সাথে থাকা ৯০- মডেলের একটি গাড়িও ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করেছে। পরে ওই তরুণীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে পাঠানো হয়।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণীর শারিরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসাপাতালে উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।তিনি বলেন, গাইনি বিভাগের এক অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে গৃহবধূর চিকিৎসা চলছে। তিনি শারিরিকভাবে অনেকটা সুস্থ রয়েছেন।

শনিবার সকালে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, এমসি কলেজ ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমান, কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, অর্জুন লস্কর ও বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল এবং তারেক আহমদ।

রোববার সকালে সুনামগঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে শ্রীকান্ত ছাত্রাবাসের সুপার ও পলিটিক্যাল সায়েন্সের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জীবন কৃষ্ণ আচার্য্য গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা উপস্থিত হয়েছিলেন। এরপর পুলিশ ধর্ষিত তরুণীর বক্তব্যে রেকর্ড করে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে পাঠিয়েছে।

হোস্টেল বন্ধ হল অবস্থায় অভিযুক্তরা কিভাবে হোস্টেলে প্রবেশ করলো; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে হোস্টেল বন্ধ থাকলে আনঅফিসিয়ালি কিছু ছাত্র হোস্টেলে রয়ে গেছে। যারা টিউশনি করে এমন ছাত্ররা ছিল। তবে অভিযুক্তরা আমাদের কলেজের ছাত্র কি-না সেটা যাচাই-বাছাই করে জানাতে পারব। আর আমাদের পক্ষ থেকে কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এটিও শনিবার বলতে পারবো।

এদিকে ঘটনার পরপর র‌্যাব-৯ সিলেটের এএসপি সামিউল আলম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহা. সোহেল রেজা পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।