মা আমাকে মাফ করে দিও, বোন তোরা মাকে দেখে রাখিসব্যর্থ হয়ে ভয়ঙ্কর পথে কলেজ ছাত্র...তারপর...


Published: 2020-09-26 14:36:36 BdST, Updated: 2020-10-25 23:18:58 BdST

নারায়ণগঞ্জ লাইভ: ভয়ঙ্কর পথে পা বাড়ালেন প্রেমিক। অনেকটা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আর কোনদিন ফিরবে ওই কলেজ ছাত্র। তিনি জীবনের শেষ লেখাটি লিখলেন। একটি সুইসাইড নোট লিখে জানান দিলেন শেষ ঠিকানার খবর। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে রাকিব (২১) নামে এক কলেজছাত্র আত্মহত্যা করেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মো. হাবিবুল্লাহর বড় ছেলে।

রাকিব কবি নজরুল সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাকিব ছিলেন বড়। পরিবার নিয়ে তারা মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত কবির চেয়ারম্যানের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ছেলে হিসেবে অত্যন্ত ভদ্র হলেও শেষ কাজটি করে সমালোচনার জন্ম দিয়ে গেলেন।

এ বিষয়ে রাকিবের ছোট বোন রাকিকা বলেন, এলাকার একটি মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমার ভাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার ওই মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হওয়ার ক্ষোভে ও কষ্টে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় পুলিশ এসে আমার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। আমরা এমনটি কখনও ভাবিনি। আমার ভাই চলে গেছে কিন্তু রেখে গেছে অনেক কথা। অনেক ব্যক্ত বেদনা।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই কাজল মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে শুক্রবার রাত ১টা থেকে রাত ৩টার মধ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রাকিব।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি কামরুল ফারুক বলেন, রাকিবের ঘরে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। মা ও দুই বোনের কাছে লেখা চিঠিতে রাকিব বলেছেন- মা আমাকে মাফ করে দিও। বোন তোরা মাকে দেখে রাখিস। ধারণা করা হচ্ছে- প্রেমের সূত্র ধরেই এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তারপরও বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। যদি করো বিরুদ্ধে দোষের প্রমান থাকে তাহলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে রাকিবের একাধিক ঘনিষ্ট বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাকিবের সঙ্গে একটি মেয়ের তিন থেকে চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। রাকিব তাদের সম্পর্কের কথা তার পরিবারকে জানান।

কিন্তু রাকিবের সঙ্গে ওই মেয়ের সম্পর্ক তার পরিবার মেনে নেয়নি। সম্প্রতি ওই মেয়ের অভিভাবকরা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। এতে রাকিব মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আমাদের সাথে রাকিব অনেক কথাই বলেছে। আমরা তার ঘনিষ্ট ছিলাম। আমরা খুবই মর্মাহত।

কি আর করা। যা হবার তো হয়েই গেছে। আমরা আর আমাদের বন্ধুকে ফিরে পাব না।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।