‘তাকে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ডিবি কার্যালয়েনুর এখন ডিবির হেফাজতে, কমিশনার বললেন যে কোন সময় মুক্তি


Published: 2020-09-22 01:04:38 BdST, Updated: 2020-10-31 16:40:51 BdST

ঢাবি লাইভ: ক্যাম্পাসলাইভ-ই-সত্য হলো। সহসাই ছাড়া পাচ্ছেন না নুরুল হক নুর। লা্লবাগ থানা থেকে ছাড়া পেলেও তিনি এখন ডিবির হেফাজতেই থাকছেন। সূত্র জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে বেশ ক'টি মামলার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাঙচুর, পুলিশী কাজে বাঁধা ও মারধরসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে আবারো হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার রাত ১১.৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিছনের গেট থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরকে তাদের হেফাজতে নিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল-এর পকেট গেট দিয়ে গাড়িতে তুলে নুরকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নুরের সমর্থকরা সেই গাড়িতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ নুরকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

প্রসঙ্গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ভবন এলাকায় গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নুরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নাটকের রহস্য এখনও স্পষ্ট নয়। কেন নুরকে থানায় নেয়া হলো আবার কেনই বা ছেড়ে দেয়া হলো এনিয়ে চলছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। তবে তিনি সহসাই এর দায় এড়াতে পারবেন না। তাকে কারাবরণ করা লাগবে বলেও ওই সূত্রটি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে এখন ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, ধর্ষণের মামলার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগেও তাকে আটক করা হয়। এরপর তাকে নেয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে। নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় ঢাবি ছাত্রীর করা ধর্ষণের মামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সেখানেই পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ‘তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তারা যে সমাবেশ করছিল সে সমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। সে হামলার ঘটনায় একটা মামলা করা হবে। সে মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।’

ওয়ালিদ হোসেন জানান, ‘তাকে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ডিবি কার্যালয়ে। এরপর তাকে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় এ মামলাটি করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে নুরুল হক নুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণের স্থান হিসেবে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে হাসান আল মামুনের বাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

যা বললেন কমিশনার:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে যেকোনো ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম। সোমবার রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আটকের পর ডিবি অফিসে নেয়া হলে নুরের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তার এজমা আছে। রাতে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। যেকোনো সময় তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।

এজাহার হওয়ার পর এভাবে আসামি ছাড়া যায় কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা তা তদন্ত হবে। ভিপি নুরের বিরুদ্ধে তো ধর্ষণের কোনো অভিযোগ নেই, তার কাছে মেয়েটি বিচার নিয়ে এসেছিল। ঘটনা তদন্ত করে যদি সত্যতা কিছু পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে নুরসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার মুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

প্রসঙ্গত ২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাদী হয়ে রাজধানীর লালবাগ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় নুরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হলেন, হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান, মো. সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকি।

এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত হাসান আল মামুন, আর নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের লালবাগ জোনের সহকারী কমিশনার কে এম রায় নিয়তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহার গ্রহণ করেছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

এজাহার দাখিলের জন্য পাঠান লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।