ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: আদালতে মজনুর কাণ্ড


Published: 2020-09-20 16:50:00 BdST, Updated: 2020-10-21 10:43:37 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আসামি মজনুর বিরুদ্ধে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

সাক্ষ্য শেষে ঢাকার ৭নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে পুলিশ সদস্যরা আসামি মজনুকে মহানগর হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় সাজার ভয়ে আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন মজনু।

কান্না করতে করতে আসামি মজনু বলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাব। আমি কারাগারে যাব না।’

মজনুর এই কান্নাকে দণ্ড কমাতে অভিনয় বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘শাস্তি কমাতে কান্না করছেন মজনু। ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে তার এ অভিনয়ে কাজ হবে না।’

এদিন ঢাকার ৭নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের আদালতে সাক্ষ্য দেন ছাত্রীর বাবা। এরপর তাকে জেরা করেন মজনুর আইনজীবী রবিউল ইসলাম। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা দেন ওই ছাত্রী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি রাজধানীর কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামেন।

এরপর একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে সড়কের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে নির্যাতনও করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

রাত ১০টার দিকে নিজেকে একটি নির্জন জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করেন ওই ছাত্রী। পরে সিএনজি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আসেন। রাত ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা।

৬ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় মামলাটি তালিকাভুক্ত করে থানা কর্তৃপক্ষ।

পরে ৮ জানুয়ারি অভিযুক্ত ধর্ষক মজনুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। মজনুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। এরপর ১৬ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেন মজনু।

গত ২৬ আগস্ট এই মামলার একমাত্র আসা‌মি মজনুর বিচার শুরু হয়েছে। ওইদির তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২১ সাক্ষী রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেন আদালত।

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।