ধর্ষিতা কিশোরীর সন্তান প্রসব হলেও গ্রেফতার হয়নি ধর্ষক


Published: 2020-06-03 21:37:00 BdST, Updated: 2020-07-13 12:02:41 BdST

কে, এইচ, এম, নুরুল আলম (কামাল):  নেত্রকোনার মদনে প্রতিবেশীর ধর্ষনের শিকার এক অসহায় হতদরিদ্র কিশোরী তনু আক্তার (১৪) সন্তান প্রসবের এক মাস অতিবাহিত হলেও ধর্ষকসহ আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এভাবে সময় অতিবাহিত হওয়ায় কিশোরীসহ তার পরিবারের লোকজন নানা সংশয়ে ভুগছেন। কি হবে কিশোরী ও প্রসব হওয়া নবজাতকের?

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার দেওসহিলা গ্রামে সরজমিনে গেলে ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, আমি তখন মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেনিতে পড়ি। গত বছরের আষাঢ় মাসের ২৫ তারিখ একই বাড়ির আবু বক্কর বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রী নাসিমার অনুরোধে ওদের ঘরে রাতে ঘুমাতে যাই।

ওই বাড়ির সেলিমের ছেলে জুয়েল হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করে আমাকে উক্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি চিৎকার করলে নাসিমা আমার মুখে ওড়না দিয়ে চেপে ধরে। এ সময় জুয়েল আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনায় মা-বাবাসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেয়।

এভাবে আরও একাধিকবার ভয় দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি ভয়ে বিষয়টি চেপে রাখলেও আমার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকলে মা-বাবাকে এ ঘটনা জানাই। তারা বিভিন্নস্থানে ঘুরে বিচার না পাওয়ায় ১০ মার্চ ২০২০ইং তারিখে বাবা হানিফ মিয়া বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে নেত্রকোনার মদন কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

১৮ মার্চ আদালতের নির্দেশনুসারে মামলাটি ২৪ মার্চ থেকে মদন থানায় তদন্ত শুরু হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর ময়মনসিংহ হাসপাতালেই গত ০৩ মে কন্যা সন্তান প্রসব হয়। এখন কি হবে আমার ও প্রসব হওয়া নবজাতকের। আসামীরা প্রকাশ্যে বাড়িতে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।

মামলা দায়ের করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ধর্ষক জুয়েলসহ কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আর যেন কোনো কিশোরীর অবস্থা আমার মতো না হয় সে জন্য ধর্ষক জুয়েলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

ধর্ষিতা কিশোরী ও প্রসব হওয়া সন্তান

 

ভুক্তভোগীর কিশোরীর মা জানান, আমার মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়েকে ভয়ভীতি প্রর্দশন করে প্রতিবেশী সেলিমের ছেলে জুয়েল জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গেলে ঘটনাটি আমাদের কাছে প্রকাশ করে। আমরা বিভিন্নস্থানে ঘুরে ন্যায়বিচার না পাওয়ায় আমার স্বামী বাদী হয়ে নেত্রকোনার মদন কোর্টে মামলা করেছে।

আমরা গরীর মানুষ দিন আনি দিন খাই। বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে আছি। টাকা খরচ করতে পারি না বলে কেহ আমাদের কথা কানে নেয় না। এখন কি হবে আমার কিশোরীর মেয়েটার? এমন কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

অভিযুক্ত জুয়েলের বাড়িতে গেলে মামলার এজহার ভুক্ত ২ নং আসামী নাছিমার সাথে দেখা হয়। তার সাথে কথা বলতে চাইলে সে নানা কথা বলে পালিয়ে যায়। জুয়েলের মা বেদেনা আক্তার ধর্ষনের ঘটনার সত্যত্যা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় আমাদের প্রায় লক্ষাধিক টাকা পয়সা খরচ হয়ে গেছে। কিছু দিনের মধ্যেই আমার ছেলেকে কোট থেকে জামিনে মুক্ত করানোর চেষ্টা করতেছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) স্বপন চন্দ্র সরকার বলেন, আগে এস আই ফারুক এ মামলার দায়িত্বে ছিলেন। এখন আমি দায়িত্বে আছি। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মদন থানার ওসি মোঃ রমিজুল হক বলেন, মামলাটি তদন্ততাধীন আছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খালিয়াজুরি সার্কেল) মোঃ জামাল উদ্দিন জানায়, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা, ০৩ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//কেএইচএম//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।