পুলিশ বক্সের বোমা হামলা: জবানবন্দিতে বেরোলো যেসব তথ্য


Published: 2020-05-06 15:30:04 BdST, Updated: 2020-05-31 15:41:24 BdST

লাইভ প্রেতেবদকঃ চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতার তিন জঙ্গি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কারো নেতৃত্বে নয়, শুধুমাত্র মতাদর্শ নিয়েই স্বতন্ত্রভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি। আর হামলার জন্য প্রধান টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছে পুলিশকেই। সদস্যদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করছে ‘থ্রিমা’ ‘টেলিগ্রাম’ এবং ‘রায়ট’ নামের অপ্রচলিত মোবাইল অ্যাপস।

চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতার তিন জঙ্গি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। আরও একটি বড় হামলার পরিকল্পনা করলেও লকডাউনের কারণে তা ভেস্তে যায় বলে স্বীকার করেছেন তারা।

বোমা হামলাস্থল ষোলশহর ২ নম্বর গেট পুলিশ বক্স থেকে হামলাকারী জঙ্গিদের আস্তানার দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েকশ’ গজ। বোমা তৈরি এবং হামলার পরিকল্পনা হয় নাসিরাবাদ গিরি নিবাসের বাসায় বসে। জঙ্গিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সময় লেগে যায় তিন মাসের বেশি। এর মূল কারণ জঙ্গিদের ভিন্ন কৌশল।

পুলিশি তদন্তে আরও বের হয়ে আসে, নব্য জেএমবির মূল নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র হিসাবে গড়ে উঠছিল চট্টগ্রামের গ্রুপটি। এখন অবধি এই গ্রুপে যোগ দিয়েছে ১২ জন। যার মধ্যে পুলিশ বক্সে বোমা হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল ৭ জন।

এ সংগঠনের প্রধান তিন সদস্য এমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কের্টিং বিভাগ, আবু ছালেহ ন্যাশনাল পলিটেকনিক টেক্সটাইল ইনিস্টিউট এবং সাইফুল্লাহ সাতকানিয়া কলেজের ছাত্র। বাকি সদস্য নোমান, মহিউদ্দিন, হাবিব, মাইনুল, কায়সার এবং শাহেদ বিভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে মোবাইল অ্যাপস থ্রিমা-টেলিগ্রাম এবং রায়ট ব্যবহার করতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা।

এমনকি ষোলশহর ২ নম্বর গেট পুলিশ বক্সে হামলার পর আরও একটি বড় হামলার প্রস্তুতি হিসেবে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু লকডাউনের কারণে তারা সফল হতে পারেনি বলে দাবি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের।

সিএমপি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, যেহেতু পুলিশ এখন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সে কারণেই তারা টার্গেট হিসেবে পুলিশকেই বেছে নেয়।

সিএমপি কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অতিরিক্ত উপ কমিশনার পলাশ কুমার নাথ জানান, কারো ছত্রছায়া থেকে এই কাজ হয়নি। এটি সম্পূর্ণ নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা গ্রুপটি তৈরি করেই এই কাজটি ঘটিয়েছে।

ঢাকা, ০৬ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।