সুনামগেঞ্জের এমপি রতনের দুর্নাম!


Published: 2020-02-19 14:21:35 BdST, Updated: 2020-04-05 04:32:00 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ ছাড় মিলেনি। অনেক চেষ্টা। অনেক তদবীর হলেও মিত্ররা এমপির কাছে মিশেনি। বরং বলেছেন আমরা এখন কি করবো। উপরের নির্দেশ তদবীর করলেই আমরা ফেঁসে যাব। এইবারকায় মাফ করেন ভাই। তবে চেষ্ঠায় আছি। আপনার জন্যে কি করা যায় তাই ভাবছি। গাবরাবেন না। এসব কথাই বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের সুনামগেঞ্জের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে। রতনের ঘনিষ্ট সূত্র এসব কথা জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিকে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মঙ্গলবার ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংস্থাটির প্রধান কাযালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল এমপি রতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

কানাডায় বাড়ি আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। বিদেশে আমার কোনো বাড়ি নেই। এর আগে ১০ই ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এমপি রতনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়, আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পরস্পর যোগসাজশে ঘুষ দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ক্যাসিনো ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জন পূর্বক বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে এমপি রতনের বিরুদ্ধে। এসব নানান বিষয়ে তাকে জেরা করেন দুদকের কর্মকর্তারা।

২৪ অক্টোবর দুদক থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন বরাবর পাঠানো চিঠিতে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। চিঠিতে দেশে মানিলন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ এবং দুদকের অনুসন্ধানে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে বলা হয়। গত বছর ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপি শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানের পর থেকেই এমপি রতনের নাম উঠে আসে। দুদক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক অভিযোগপত্র জমা পড়ে তার বিরুদ্ধে।

এমপি রতনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সূত্র বলছে, এমপি রতন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারী ও সরকারি অর্থ আত্মসাতসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানী ঢাকা, সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জে ১৩টি বাড়ির মালিক।

নিজ গ্রাম ধর্মপাশায় নিজ গ্রামে ১০ কোটি টাকায় ‘হাওর বাংলা’ নামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িটির অধিকাংশ জমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দখল করা। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে জেলা পুলিশ লাইনসের বিপরীতে ৭ কোটি টাকায় বাড়ি কিনেন রতন। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘পায়েল পিউ’।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করছে। আমি নিজেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের ৩০টি অফিস করে দিয়েছি। আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। তার সাফ কথা। আমি ঠিক আছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।