যে কারণে ফেঁসে গেলেন তুরিন আফরোজ


Published: 2019-11-11 16:07:01 BdST, Updated: 2019-12-07 22:34:23 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ পেশাগত অসদাচরণ, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত প্রসিকিউশন টিমের মামলা ও অন্যান্য কাজ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

সোমবার এ প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ করা হয়েছে।

এস এম নাহিদা নাজমীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের দায়ে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত নিয়োগ বাতিলক্রমে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হলো।’

পূর্বে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল আটক করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান।

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, ‘প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ওই আসামির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ রয়েছে জানিয়ে তাকে পালাতে বলেন। এ প্রসঙ্গে ওয়াহিদুল হকের কাছে প্রসিকিউটর তুরিন মোটা অঙ্কের টাকাদাবি করেন।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রভাবশালী আসামি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক ডিজি মেজর (অব.) ওয়াহিদুল হকের মধ্যেকার গোপন বৈঠকের অভিযোগে গত বছরের ৯ মে তাকে ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করে নেন।

এ ঘটনার পরে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় প্রায় ১৮ মাস তদন্ত সম্পন্ন করে তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার এ আদেশ ঘোষনা করেছে।

২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে আটক করা হয়।

পরদিন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ওয়াহিদুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই মামলার প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এবং তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। ২০১৭ সালে তদন্ত শুরু হওয়ার পর ১১ নভেম্বর তুরিন আফরোজকে মামলাটির পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়।

অভিযোগ ওঠে, ওয়াহিদুল হককে আটক করার পূর্বে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তুরিন আফরোজ প্রথমে তাকে টেলিফোন করে দেখা করার জন্য সময় চান। এরপর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেন তারা।

এ-সংক্রান্ত দুটি অডিও রেকর্ড পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত সংস্থার হাতে এলে তা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে হস্তান্তর করা হয়। অডিও রেকর্ড দুটি ওয়াহিদুল হক গ্রেফতার হওয়ার পর তার মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে হতে জানা গেছে, দুটি অডিও ক্লিপের মধ্যে একটি টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ড। যার দৈর্ঘ্য চার মিনিটের মতো। অন্য অডিওটি ওই গোপন বৈঠকের, প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টার মতো। টেলিফোনে কথা হয় ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর আর বৈঠকটি হয় ঢাকার অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্তোরাঁর গোপন কক্ষে পরদিন ১৯ নভেম্বর। সেখানে তুরিন আফরোজ, তার সহকারী ফারবি, মোট পাঁচজন ছিলেন আসামি ওয়াহিদুল হকসহ।

অভিযোগ আছে, তুরিন আফরোজ ওই অডিও ক্লিপে আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু পরে ওইসব অডিও রেকর্ড আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। তদন্ত সম্পন্ন করে সোমবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই আদেশ ঘোষণা করেছে।

এই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সিনিয়র সমন্বয়ক এম. সানাউল হক জানান, ‘টেলিফোন রেকর্ড এর ক্লিপে তুরিন আফরোজ বলেছেন যে, তিনি বোরকা পরে ওই হোটেলে আসবেন। আর তার সাথে থাকবে তার সহকারী ফারাবি, যাকে তিনি সেখানে নিয়ে আসবেন তার নিজের স্বামীর পরিচয়ে।’

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।