আবরারের ভাই-ভাবীকে মারধর: পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ


Published: 2019-10-09 20:47:36 BdST, Updated: 2019-11-14 02:14:59 BdST

কুষ্টিয়া লাইভঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের তোপের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বুয়েটের ভিসি প্রফেসর সাইফুল ইসলাম।

শেষপর্যন্ত আবরারের বাড়িতে না ঢুকে সামনের রাস্তা থেকে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রহরায় তিনি দ্রুত চলে যান। ভিসিকে সরিয়ে দেয়ার সাথে সাথে পুলিশের সাথে গ্রামবাসীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পুলিশ আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজকে মারধর করেন এবং আবরারের মামাতো ভাবী তমাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ করেন আবরারের পরিবার। তামাকে কুমারখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

ভিসির সাথে ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাতসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগ নেতারা। এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে পৌছান বুয়েটের ভিসি সাইফুল ইসলাম। সেখান থেকে ডিসি ও এসপিসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে রায়ডাঙ্গা গ্রামে যান তিনি।

আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ বলেন, পুলিশ আমার গায়ে হাত দিয়েছে। বুকে আঘাত করেছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান নিজে আমাকে মেরেছে। আমার এক ভাইকে পিটিয়ে মেরেছে, এবার পুলিশ কী আমাকে মারবে?।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিসি আসার সংবাদ পেয়ে আবরারের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকে গ্রামবাসী। মুহুত্বেই কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আবরারের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ওই গ্রামে যান ভিসি।

সেখানে গিয়ে রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে আবরারের কবর জিয়ারত করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রুপ নেয়। ভিসিকে নিরাপত্তা দিতে কয়েকশ পুলিশের সাথে সেখানে অবস্থান নিতে থাকে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

কবর জিয়ারত শেষে আবরারের বাড়ির দিকে আসতে থাকে ভিসির গাড়িবহর। আবরারের বাড়ি ঢোকার মুখে ভিসির গাড়ির সামনে নারী শুয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দ্রুত গাড়ি ঘুরাতে থাকেন। এসময় হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভুয়া ভুয়া বলে শ্লোগান দিতে থাকে।

পরে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রহরায় জেলা প্রশাসকের গাড়িতে করে ওই এলাকা ত্যাগ করেন ভিসি।

ভিসির গাড়িবহর চলে যাওয়ার সাথে সাথে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জে আবরারের মামাতো ভারী তমা গুরুতর আহত হয়েছেন।

তাকে কুমারখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে কয়েক ঘন্টা বিক্ষোভ করেন গ্রামবাসী ।

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।