এ সব কি হচ্ছে, সারাদেশে!যেভাবে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে যুবককে মল-মূত্র খাওয়ানো হলো (ভিডিও)


Published: 2019-10-09 20:11:18 BdST, Updated: 2019-11-13 12:56:16 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ  অসভ্য। বর্বর। এসব কি হচ্ছে এদেশে। অমানসিক ও অমানবিক বটে। এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে অপর এক যুবককে হাত-পা বেঁধে মল-মূত্র খাওয়ানোর দৃশ্য কেউ কখনও ভাবেনি। কেউ হয়তো জীবনে শুনেওনি। কিন্তু তাই ঘটলো বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায়। এনিয়ে চলছে দেশ জুড়ে তোলপাড়। চলছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এনিয়ে নানান আলোচনাও হচ্ছে।

জানাগেছে আজম বেপারী (২৫) নামের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর প্রকাশ্যে মল-মূত্র খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে আজম বেপারীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই দৃশ্যটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা।

এ বিষয়ে হিজলা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস তালুকদার জানান, বিষয়টি আমরা সোমবার রাতে জেনেছি। যত বিরোধই থাকুক এভাবে কেউ কাউকে অপমানিত করতে পারে ভাবা যায় না। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন-সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ওই আলোচিত ঘটনার পর লোকলজ্জায় এলাকা ছেড়েছেন আজম বেপারী। হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার আজম বেপারী (২৫) হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার মহিউদ্দিন বেপারীর ছেলে। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

এলাকাবাসী জানান, হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদারের নেতৃত্বে টুমচর এলাকার রশিদ মাতুব্বর, মো. সোলায়মানসহ ৮ জন ব্যক্তি নির্যাতন ও মল-মূত্র খাওয়ানোর কাজে অংশ নেন বলে স্থানীয়রা ভিডিওটি দেখে নিশ্চিত হয়েছেন।

আরও জানাযায় মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই দৃশ্য মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল ভিডিওটি ধারণ করেছেন বলেও তারা জানিয়েছেন। বলেছেন এরা খুবই প্রভাবশালী।

ভিডিও:

এলাকাবাসী আরও জানান, ঘটনার নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জুগিয়েছেন নির্যাতনের শিকার আজম বেপারীর ব্যবসায়িক অংশীদার মো. জহির। জহির ও আজম বেপারী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তারা জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন। এছাড়া বিভিন্ন কাজের দালালিও করতেন এরা।

জমাজমি ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০/১২জন লাখ টাকা লাভ হয়। তবে আজম ব্যবসায়িক সমান অংশীদার হলেও জহির ওই টাকা একাই আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসার লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দেবে না বলে হুমকি দেন। কিছুদিন আগে আজমকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেন জহির।

সম্প্রতি আজম এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় ব্যবসার লাভের টাকা দাবি করেন জহিরের কাছে। জহির এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজমকে শায়েস্তা করতে ফন্দি করেন। জহিরকে মারধর ও অপমান করতে হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার ও ইয়নিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে টাকা দিয়ে ভাড়া করেন।

পরিকল্পনা মতো এক সপ্তাহ আগে আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব সিকদার। সেখানে আগে থেকেই মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন তারা। এরপর আজমের হাত-পা চেপে ধরে মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা।

জানাগেছে মাহবুব সিকদার একটি বদনাভর্তি মল-মূত্র আজমের মুখে ঢেলে তা খাওয়ানো হয়। আর মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল। পরে আজমকে সেখানে ফেলে রেখে তারা চলে যান।

পরে সোমবার মল-মূত্র ঢালার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেন তারা। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় আজম বেপারী এলাকা ছেড়ে অনত্র চলে যান।

এ ব্যাপারে আজম বেপারীর স্বজনরা জানান, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতাসীন দল করেন। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। পুলিশের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা রয়েছে। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি। এ ছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে হুমকি দিয়ে ছিলেন-বিষয়টি নিয়ে আইন আদালত করলে আজমকে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, এ কারণে আজমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এখানে অবস্থান করা আজমের জন্য নিরাপদ ছিল না। আজম বেপারীর স্বজনরা আরো জানান, জহির টাকা দিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এখন তারা বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে এলাকায় রটাচ্ছে আজম ঝাঁড় ফুক করে মাহবুব সিকদারের স্ত্রী ও তার মেয়ের ক্ষতি করেছে। সে কারণে তার বিচার করেছে এলাকাবাসী। না হয় আন্দোলনে যাবেন এলাকাবাসী

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।