সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল আবরারের খুনীদের চেহারা (ভিডিও)


Published: 2019-10-07 20:23:35 BdST, Updated: 2019-10-15 02:50:58 BdST

বুয়েট লাইভঃ সেরা মেধাবীদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ব বিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার খুনের পর থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সকাল থেকেই গায়েব ছিল। এর কোন হদিস মিলছিল না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের নেতাদের যোগসাজশে ফুটেজ গায়েবের অভিযোগ করেন আবরারের সহপাঠীরা। তারা জানান, খুনিদের বাঁচাতেই এই কৌশল।

সোমবার (৭) দুপুর ১২ টার দিকে শেরে বাংলা হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখতে চান।এ সময় প্রাধ্যক্ষ ফুটেজ দেখাতে গড়িমসি করলে কান্নায় ভেঙে পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা বলেন,‘আপনার ছেলে মারা গেলে তখন আপনি কী করতেন? স্যার! আমাদের জীবনের কী কোনো মূল্য নেই আপনাদের কাছে?’

তবে দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর অবশেষে তা প্রকাশ করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

আর ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় আবরারকে খুনের ভয়াবহ চিত্র। দেখা যায় খুনীদের চেহারা। আরও দেখা যায়, কয়েকজন আবরারকে মারার পর নিয়ে যাচ্ছে। আজ দিনভর যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সাতজনেরই উপস্থিতি মিলেছে ওই সিসিটিভি ফুটেজে।

বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু বলেন: ‘আবরারকে শিবিরকর্মী সন্দেহে রাত ৮টার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইল ফোনে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। আমরা সন্দেহ করতে থাকি সে শিবির হতে পারে। কিন্তু সরাসরি প্রমাণ মিলেনি।

বিটু জানান, আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল এবং উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা।

রাসেল চক্রের সহযোগী দুইজন

 

জেরা করে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের ভাইদের খবর দেয়া হয় বলে জানান বিটু। খবর পেয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সেখানে যান।

হলের যে কক্ষে আবরারকে পেটানো হয়, সেই কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। তাঁদের মধ্যে যে তিনজন পলাতক, তাঁরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ।

ভিডিও: https://www.facebook.com/Campuslive24/videos/506117296853095/

সেই ভিডিওর ছবি

 

‘একপর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো ওরা মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত তিনটার দিকে শুনি আবরার মারা গেছে,’ বলেন বুয়েট ছাত্রলীগের এই সহ-সম্পাদক। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। এই ঘটনা নিয়ে নানান ভাবে ব্যস্ত ছিলেন বিটু।

বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্ররা বলেছেন, গতরাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে নিয়ে ‘শিবির’ সন্দেহে জেরা করার পর ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন আবরারকে পেটান। এক পর্যায়ে আবরার অচেতন হয়ে যায়।

অমিতের সহযোগী

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনেক্ষণ। তারা জানতে চান কেন সে ফেসবুকে এতো লেখালেখি করে। এটা এখনই বন্ধ করতেও তারা নির্দেশ দেয়।

এরপরে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আবরার ফাহাদ ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন, ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া।

যাদের দিকে সন্দেহের আঙ্গুল:
হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন।

ঢাকা, ০৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিজন

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।