পরশুরামের ছেলে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ঢাকায় এসে হন সম্রাট!সম্রাটের রাজত্ব চলে যাওয়ার গল্প!


Published: 2019-10-06 20:50:48 BdST, Updated: 2019-12-07 15:06:13 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: সম্রাট। একটি নাম। একটি আলোচনা। একটি সমালোচনার পাহাড়। হালে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় উঠেছে তাকে নিয়ে। একটি জীবন্ত নির্যাতন আর টর্চার সেলের জন্মদাতা। কেউ বলে হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল। আর কেউবা বলে নাটের গুরু। আবার অনেকেই তাকে চাঁদাবাজের অধিপতি হিসেবেও চেনে। ফেনীর পরশুরামের ছেলে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী। ঢাকায় এসে হন সম্রাট। গড়ে তোলেন নিজের সাম্রাজ্য। তবে তার চলা ফেরায় ছিল রাজকীয় ভাব।

৬টি সিকিউরিটি গেট পর হয়ে যেত হতো তার আস্তানায়। ৫/১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি তিনি করতেন না। তিনি ছিলেন মোটা দাগের প্রতি দুর্বল। অসাধু কিছু পুলিশ ও সাংবাদিকদের তিনি নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে চলতেন। মতিঝিলের বাড়ি, অফিস দখলে ছিল তার বিরাট সিন্ডিকেট। তছাড়া ফুটপাত ও বিভিন্ন মার্কেট থেকে নিয়মিত আদায় করা হতো মাসোহারা।

সম্রাটের ৬ মাসের জেল:

সম্রাট থেকে কয়েদী

 

বন্য প্রাণী আইনে যুবলীগ নেতা ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। সন্ধ্যায় তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযানে ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার পর এ দণ্ড দেয়া হয়। অভিযানে ওই কার্যালয় থেকে অস্ত্র, মাদক ও টর্চার মেশিন উদ্ধার করা হয়। জানাগেছে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

সম্রাটের স্ত্রীরা কে কোথায়?

যুবলীগ নেতা সম্রাটের ব্যক্তিজীবন নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের জানা যায়, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের তিনজন স্ত্রী রয়েছেন। একজন বিদেশি স্ত্রী আছে বলেও জানা গেছে। তবে তার নাম এখনও জানতে পারেনি র্যাব।

দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন

 

সম্রাটের পরিবার সূত্র জানা গেছে, সম্রাটের দুই স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রী বাড্ডায় থাকেন। প্রথম পক্ষে সম্রাটের এক মেয়ে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন।
সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী মহাখালীর ডিওএইচএসে থাকেন। তার এক ছেলে। তিনি মালয়েশিয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সিঙ্গাপুরে সম্রাটের বিদেশি একজন স্ত্রী আছে বলেও পারিবারিক সূত্র জানায়।

তবে ওই স্ত্রীর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্রাট মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসাতেই স্থায়ীভাবে থাকতেন।
উল্লেখ্য, আজ ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী যুবলীগে নেতা এনামুল হক আরমানকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব।

দু বছর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় যেতেন না:

দু বছর বাসায় যান না যুবলীগ নেতা সম্রাট। এ সময় থাকতেন কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজ কার্যালয়ে। খবরে আরও জানা যায়, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ২ বছর ধরে ঢাকার মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় যেতেন না। তবে গাড়ির চালকের খরচসহ পরিবারের সব খরচ দিতেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, সম্রাটের দুই স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রী বাড্ডায় থাকেন। প্রথম পক্ষে সম্রাটের এক মেয়ে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন।

সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী মহাখালীর ডিওএইচএসে থাকেন। তাঁর এক ছেলে। তিনি মালয়েশিয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সম্রাটরা তিন ভাই। এক ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন।

আরেক ভাই সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। সম্রাটের মা ভাইদের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। সম্রাটদের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। উল্লেখ্য, আজ ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের পুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও যুবলীগের আরেক নেতা আরমান আলীকে আটক করে র‌্যাব।

‘বিদেশী নারীর সঙ্গে সময় কাটাতেন সম্রাট’

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট সিঙ্গাপুরে একজন বিদেশী নারীর সঙ্গে সময় কাটাতেন। এ তথ্য জানিয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সম্রাটের আর কোন নেশা নেই জুয়া খেলা ছাড়া।

বিদেশীর নারীর সঙ্গে যুবলীগ নেতা

 

ক্যাসিনো থেকে টাকা আয় করে সংগঠন চালাতেন বলেও দাবি করেছেন শারমিন। বিকালে মহাখালির ডিওএইচএস এ সম্রাটের স্ত্রী বসবাস করেন। এ বাসায় সম্রাট গত দুই বছরে এক দিনও আসেননি।

শারমিন জানান, আগে তাকে নিয়ে বিদেশে গেলেও গত দুই বছর আর তাকে সঙ্গে নেননি। তিনি সিঙ্গাপুরে চায়না-মালয়েশিয়ান বংশোদ্ভুত এক নারীর সঙ্গে সেখানে সময় কাটাতেন। শারমিন বলেন, সম্রাটকে ভাল মানুষ বলেই তিনি জানেন।

সম্রাটের আস্তানা থেকে যা উদ্ধার হলো:

ছবি: সম্রাটের টর্চার সেল থেকে জব্দকৃত মাদক ও অস্ত্র

ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কাকরাইলের আস্তানায় উদ্ধার অভিযান এখন শেষ। ওই কার্যালয় থেকে এ পর্যন্ত অস্ত্র, মাদক ও ক্যাঙ্গারুর চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে চলা অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে এক হাজার পিসের বেশি। এছাড়া একটি বিদেশী পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। মানুষকে নির্যাতন করার কাজে ব্যবহৃত হয় এমন দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া উদ্ধার হয়েছে।

সম্রাট-আরমানকে বহিষ্কার:

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি আনামুল হক আরমানকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের কার্যনির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের চার দিনের মাথায় গত ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ওইদিনই রাজধানীর ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবের ক্যাসিনোয় অভিযান চালানোর পাশাপাশি গুলশান থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গুরু ওমর ফারুকের সঙ্গে শিষ্য সম্রাট

 

এরপর গত ২০শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনে নিজের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে। যুবলীগের এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়।

এই অভিযানে অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আয়ের জন্য ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নামও উঠে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তারের পর দল থেকেও বহিষ্কার হলেন সম্রাট ও তার সহযোগী আনামুল হক আরমান।

এর আগে রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারি পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান বলেন: চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন সম্রাট:

জানাগেছে ছিমছাম দোতলা বাড়িটির অবস্থান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে। গ্রামটি ভারতের সীমান্তবর্তী। এই বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার হন যুবলীগ নেতা সম্রাট। আজ ভোর ৫টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সহযোগি আরমানুল হক আরমানসহ সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ছবি: এই বাড়ি থেকেই সম্রাট কে গ্রেফতার করা হয়

 

বাড়িটির মালিক মনির চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। তিনি একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। মনির চৌধুরীর এই বাড়িতেই ঘনিষ্ঠ সহযোগি আরমানসহ আত্মগোপনে ছিলেন সম্রাট।

সম্রাটের অফিস ও শান্তিনগর-মহাখালীর বাসায় অভিযান:

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি (সদ্য বহিস্কৃত) ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কাকরাইল অফিসে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এজন্য হেফাজতে থাকা সম্রাটকে আজ দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে নেয়া হয়।

এছাড়া অভিযান চলছে তার শান্তিনগর ও মহাখালীর বাসায়ও। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারি পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে একটি দল।

এ সময় র‌্যাবের গাড়ি থেকে সম্রাটকে নামিয়ে হেলমেট পরিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে নেয়া হয়। সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান উপলক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব সদস্য ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। জানা গেছে, সম্রাটের শান্তিনগরের বাসায় তার ভাই মো. বাদল থাকেন। মহাখালীর বাসায় থাকেন সম্রাটের প্রথম স্ত্রী ও এক আত্নীয়।

ফেনীর সম্রাট; অতপর...:

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হওয়ার পর পুরো ঢাকাতেই ছড়িয়ে পড়ে তার রাজত্ব। বিশেষ করে মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় ছিল তার একক নিয়ন্ত্রণ। ক্যাসিনো থেকে চাঁদাবাজি সর্বত্রই ‘সম্রাট ভাই’। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর পরপরই সম্রাটকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন। কেউ বলেন, তাকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে, কেউ বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কারও কাছে তথ্য ছিল, তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন। সব গুঞ্জন শেষ করে দিয়ে গত রাতে গ্রেপ্তার হন সম্রাট। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে এমনটাই জানানো হয়েছে। এখন তাকে নিয়ে অভিযান চলছে। তোলা হবে আদালতে। মামলা হবে একাধিক। কাকতালীয় কি না কে জানে- নিজ জেলা ফেনী লাগোয়া চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হলেন সম্রাট। পতনের আগে আগে রাজা কি নিজ পিতৃভূমির কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। সম্রাট এমন এক সময় গ্রেপ্তার হলেন যখন ‘ফেনী নদী’ও রয়েছে আলোচনার শীর্ষে।

ঢাকা, ০৬ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।