সম্রাটকে গ্রেপ্তার; সংশয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী


Published: 2019-10-01 16:14:47 BdST, Updated: 2019-10-21 17:16:49 BdST

লাইভ পতিবেদকঃ ক্যাসিনো কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যদিও তিনি এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতেই রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাম্পাস লাইভকে জানান, সম্রাটের সুবিধাভোগীদের তালিকায় মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, সাংসদ,সাংবাদিকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিই জড়িয়ে আছেন। এ কারণে হয়তো তাকে গ্রেপ্তারে সংশয়ে আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি তাকে কোনো মামলায় আসামিও করা হয়নি। অনেকে বলছেন, সম্রাটকে গ্রেপ্তার না–ও করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র হতে জানা যায়, কাকরাইলে নিজের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে নিরাপদ অবস্থানে গিয়ে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সম্রাট। তিনি পরিবার ও দলীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। দুদিন আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। তবে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

পুলিশ জানায়, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার পরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান সম্পকৃত অগ্রগতি তাকে জানানো হবে। এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার করা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করার পর্যায়ে নেই। তদন্তে সম্রাটের নাম আছে কি না বা তাঁকে আটক করা হবে কি না, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন সবই তদন্ত পর্যায়ে আছে। আগাম কিছু বলা ঠিক হবে না।

গোয়েন্দা পুলিশ একটি মামলার তদন্ত করছে। বাকি ১৬টি মামলার তদন্ত করছে র‍্যাব। গত ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার অভিযান শুরুর পর ১৩ দিন পার হলো। কিন্তু অভিযানের ব্যাপ্তি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারছেন না।

ক্লাবপাড়া হতে জানা গেছে, মতিঝিলের আরামবাগ, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে নিয়মিত ক্যাসিনো ছিল। ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্য পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন সম্রাটের লোকজন। সেখান থেকে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকা আয় হতো। সেই টাকার ভাগ যেত বিভিন্ন মহলে। কিছু পুলিশ সদস্যও এসব টাকার ভাগ পেতেন।

তদন্তকারী সূত্র হতে জানা যায়, ক্যাসিনো-কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তারা সবাই সম্রাটের নাম প্রকাশ করেছেন। সম্রাটের সহযোগী হিসেবে নাম আসছে কাউন্সিলর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক ওরফে সাঈদ, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক ওরফে আরমানসহ আরও কয়েকজনের। এর মধ্যে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ও মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি।

ঢাকা, ০১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।