দশ কোটি টাকা: ‘প্লিজ ছবি তুলবেন না।’যুবলীগের যুবরাজ শামীম যে কারণে বন্দি হলেন


Published: 2019-09-20 17:42:35 BdST, Updated: 2019-10-14 07:47:27 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ আরেক নক্ষত্রের পতন হলো। যুবলীগের খালেদের পর এবার ফেঁসে গেছেন জি কে শামীম। তার পুরো নাম এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। তাকে অনেকেই যুবরাজ বলে ডাকতেন। তিনি ঢাকার কাছের একটি জেলার প্রভাবশী একজন এমপির খুবই বিশ্বস্ত লোক। তার রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। নগরীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার ক্যাডার বাহিনীর সক্রিয় ও সশস্ত্র বাহিনী। এমনটিই জানাগেছে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সূত্রে।

শামীমের ৭ দেহরক্ষিকেও আটক করা হয়েছে। নাড়াছাড়া পড়েছে দেশ জুড়ে। কেন এই গ্রেফতার, এনিয়ে সমালোচনা আর আলোচনার ঝড় বইছে সারা দেশে। সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিল, কোতয়ালী, রমনা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। আটক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নিকেতনে শামীমের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিভিন্ন সূত্র জানাগেছে প্রায় দশ কোটি টাকা নগদ ও দুইশ কোটি টাকার এফডিআর চেক উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এসময় সাংবাদিক ও র‌্যাব সদস্যদের দেখে হতভম্ব হয়ে যান শামীম।
বিশেষত সাংবাদিকদের একের পর এক ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ দেখেই অবাক হন। ভাবতেই পারেননি কার্যালয়ে র‌্যাব ও সাংবাদিক আসবেন। তবে তার ভাব ছিলো তিনি যুবরাজ।

এদিকে সাংবাদিকদের ছবি না তোলার আকুতি জানিয়ে শামীম বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ছবি তুইলেন না, আমাকে বেইজ্জতি কইরেন না। আমার একটা সম্মান আছে। এখানে যা হচ্ছে, আপনারা দেখছেন। কিন্তু আমাকেও আত্মপক্ষ সমর্থন করতে দিতে হবে।’

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্লিজ ছবি তুলবেন না।’ তার এ কথা শুনে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা শামীমকে বলেন, ‘আপনি আমাদের সহযোগিতা করেন। আমাদের সহযোগিতার জন্য ও অভিযানের সচ্ছতার জন্য মিডিয়া আমাদের সহযোগিতা করছে।’
র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান শামীমের কাছ থেকে অত্যাধুনিক একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও তার সাত দেহরক্ষীর কাছ থেকে আরও সাতটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নগদ টাকা তো আছেই।

জানাগেছে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলসহ নানান সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে কথা লোকমুখে শোনা গেলেও সংগঠনটির শিক্ষা সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু বলছেন, শামীম যুবলীগের কেউ নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সেখানকার প্রভাবশালী এক নেতার ঘনিষ্ট কর্মী।

র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম যুবলীগ নেতার ওই কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। এরআগে অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তার কছ থেকেও লম্বা একটি তালিকাও পেয়েছে পুলিশ।

ওই তালিকা ধরে তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও র‌্যাব। আরও বেশ কয়েকজন রয়েছে র‌্যাবের টাগেটে। তারা বিভিন্ন বিষয় যাচাই বাচাই ও খোঁজ খবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানাগেছে।

ঢাকা,২০ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।